পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কুয়েটার অভিজাত সেরেনা হোটেলে শক্তিশালী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে চারজন। আহত হয়েছেন আরও ১২ জন।

পাকিস্তানের দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে হোটেল সেরেনার গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় হয় এ হামলা। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তাও আছেন।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন পাকিস্তান তালেবান হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এটি আত্মঘাতী হামলা ছিল।

কুয়েটার ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ।

ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত নং রং ছিলেন হামলার মূল লক্ষ্য।

কুয়েটায় চার সদস্যের একটি চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আছেন চীনের রাষ্ট্রদূত। যদিও হামলার সময় হোটেলের বাইরে ছিলেন তিনি।

এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি পাকিস্তানের চীন দূতাবাস।

হামলার আগে প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সঙ্গে বৈঠক করেন নং রং। বৃহস্পতিবার কুয়েটা সফর শেষে ইসলামাবাদে ফেরার কথা তার।

গ্যাসসহ নানা খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। অঞ্চলটিতে সক্রিয় সশস্ত্র বেশ কিছু সংগঠন।

বিশেষ করে সম্প্রতি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) মাধ্যমে অঞ্চলটিতে চীনের বিনিয়োগ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ আরও দানা বাঁধে। এতে বেলুচিস্তানের মানুষ কোনোভাবে উপকৃত হচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। সিপিইসির নানাবিধ প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ মানুষই ভিন্ন অঞ্চল বা দেশের বাসিন্দা।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড কর্মসূচির অন্যতম অংশ এই সিপিইসি।

২০১৯ সালে সিপিইসির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আরেকটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলা চালিয়ে আটজনকে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। আরব সাগরে চীনের সহজ প্রবেশ নিশ্চিতে বেলুচিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নির্মিত গভীর সমুদ্রবন্দরের শহর গদরে হয় ওই হামলা।

গত বছরের জুনে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আংশিক মালিকানার অন্তর্ভুক্ত পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জেও হামলা চালায় বেলুচ স্বাধীনতাকামীরা।