পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় আবাসিক ভবনের রাসায়নিক গুদামে আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। আহত অন্তত ২১ জন।

আগুনের নিয়ন্ত্রণের ফায়ার সার্ভিস দুই জনের মৃত্যুর খবর জানালেও পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে চিলেকোঠা থেকে আরও দুই জনের মরহেদ উদ্ধার করে।

চিলেকোঠা থেকে উদ্ধার করা দুই মরদেহর মধ্যে একজন ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী ওলিউল্লাহ ব্যাপারী। অপজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এর আগে দুই জনের নিহতের খবর জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।

এদের একজন ইডেন মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আক্তার সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের সঙ্গে চারতলায় থাকতেন। অচেতন অবস্থায় তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অপরজন ভবনের দারোয়ান রাসেল মিয়া, তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার ভোর ৩ টা ১৮ মিনিটে বিস্ফোরকে ঠাসা গুদামে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ারসার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে ভোর সোয়া ছয়টার দিকে।

আহত সবাইকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস থেকে জানানো হয়েছে।

অগ্নিদগ্ধ ২১ জনকে ভর্তি করানো হয়েছে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। তাদের মধ্যে চারজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, তাদের কেউই আশঙ্কামুক্ত নন।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ২১ জনের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বাকি সবার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কেউই আশঙ্কামুক্ত নন, তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

এর আগে ফায়ার সার্ভিস থেকে বলা হয়েছিল, তারা ওই ভবন থেকে ১৯ জনকে উদ্ধার করেছেন। এদের মধ্যে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া গেছেন একজন। আরেকজন অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে মারা গেছেন। বাকি ১৭ জনের মধ্যে তিনজন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, ১৪ জন ওই বাড়ির বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, নিচতলায় আগুন লাগার পর ছয়তলা ভবনের পুরোটাতেই আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির বাসিন্দারা যে যেভাবে পারেন বের হয়েছেন। পেছনে ও পাশে থাকা দুটি ভবন দিয়ে হাজী মুসা ম্যানশনের বাসিন্দাদের অনেকে বেরিয়েছেন। বাকিদের বের করে এনেছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।