পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলামের ধর্ষণে সম্প্রতি সন্তানের জন্ম দেন ওই কিশোরী। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

ফেনীর ফুলগাজীতে জুসের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণের পর সন্তান জন্ম দেয়ার ঘটনায় কিশোরীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সত্যতা তদন্ত করে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ফেনীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুর রহিম জাস্টিস অব দি পিস এর কর্তৃত্ব বলে এই আদেশ জারি করেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেরিত ওই আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক দেশের প্রতিটি নাগরিকের চলা ফেরার স্বাধীনতা, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত। কথিত সমাজপতি কর্তৃক কাউকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বেআইনি ও মৌলিক মানবাধিকার পরিপন্থী । এমতাবস্থায় উক্ত প্রচারিত সংবাদের সত্যতা আছে কিনা তা তদন্তপূর্বক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।

আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন বলেন, “ফেনীতে জাস্টিস অব দ্য পিসের কার্যালয় থেকে এটি প্রথম আদেশ। ১ মার্চ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুর রহীম স্বাক্ষরিত আদেশটি ২ মার্চ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার এবং ওসি ফুলগাজীর নিকট প্রেরণ করা হয়।”

প্রসঙ্গত, ফুলগাজীতে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ১ জুন কৌশলে এক কিশোরীকে ফেনী শহরের একটি বাসায় নিয়ে যান অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম শাওন। সেখানে জুসের সঙ্গে মাদক সেবন করিয়ে তাকে কয়েকবার ধর্ষণ করেন তিনি। একপর্যায়ে জ্ঞান ফেরার পর ধর্ষণের শিকার কিশোরী প্রতিবাদ করলে তার আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন ধর্ষক শাওন। পরবর্তীতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লাগে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরী কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরে তার স্বজনরা বিষয়টি শাওনকে জানালে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং উল্টো হুমকি দেন। এতে বাধ্য হয়ে ওই কিশোরীর মা ২৩ ফেব্রুয়ারি শাওন, তার বাবা আমিনুল ইসলাম, মা শানু ও ফিরোজ আহম্মদ বাবু নামে চারজনের নামে আদালতে মামলা করেন।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ওই কিশোরীর মায়ের দায়ের করা ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি একই উপজেলার বশিকপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির কনস্টেবল শাওনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম শাওন কিশোরীকে ফেনী শহরের একটি বাসায় নিয়ে জুসের সঙ্গে মাদক সেবন করিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। সম্প্রতি সন্তানের জন্ম দেন ওই কিশোরী