গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সমাবেশের পাশে ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ১৪ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। আসামিদের প্রকাশ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন তিনি। পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশে বিধি মোতাবেক এই কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এর আগে ১২টা ১৫ মিনিটে আসামিদের কাঠগড়ায় উপস্থিত করার সাত মিনিট পর রায় পড়া শুরু হয়। ১১ মার্চ রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ২৩ মার্চ দিন রাখে ট্রাইব্যুনাল।

মামলাটিতে আসামিরা হলেন মো. আজিজুল হক ওরফে শাহনেওয়াজ, মো. লোকমান, মো. ইউসুফ ওরফে মোছহাব মোড়ল, মোছহাব হাসান ওরফে রাশু, শেখ মো. এনামুল হক, মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ, মো. মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশিদ, মো. রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমুল, মো. তারেক, মো. ওয়াদুদ শেখ ওরফে গাজী খান, মো. আনিসুল ইসলাম ও সারোয়ার হোসেন মিয়া। এ ছাড়া জামিনে রয়েছেন আরও দুই আসামি মাওলানা আমিরুল ইসলাম ওরফে জেন্নাত মুন্সী ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ৫০ সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন৷

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজের মাঠে ২০০০ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশ থেকে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। ওই মাঠেই পরদিন শেখ হাসিনার সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল।

এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক নূর হোসেন বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি করেন। এরপর ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর সিআইডির সাবেক এএসপি আব্দুল কাহার আকন্দ মামলার অভিযোগপত্র দেন।

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

প্রথমবারের মতো হত্যাচেষ্টায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলায় রায় হলো এটি।