আগামী ২১ মার্চ ফের সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে আসছেন মুজিববর্ষে ভাস্কর-বিরোধী বক্তব্যে দিয়ে আলোচনায় উঠে আসা হেফাজত নেতা মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। খাদিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা জামালগঞ্জের আয়োজনে খতমে বুখারি ও ইসলামী মহা সম্মেলনের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাদ জোহর বক্তব্যে রাখবেন তিনি।

জামালগঞ্জ হেলিপ্যাড মাঠে সমাবেশ সফল করার লক্ষে করা হচ্ছে পোস্টারিং, বিলি করা হচ্ছে লিফলেট। আর এসব লিফলেটে-পোস্টারে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে নাম আছে- জামালগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল মুকিত চৌধুরী, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার (সাজিব), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম (সুহেল) এর, নাম আছে জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর।

তবে অনুমতি না নিয়ে হেফাজতের সমাবেশের পোস্টারে জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর নাম ব্যবহারের কারণে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) রাতে থানায় জিডি করেছেন তিনি।

জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম। তিনি বলেন, সমাবেশের জন্য অনুমতি নেয়ার জন্য কোনও আবেদন আমাদের কাছে করা হয়নি।আর পোস্টারে নাম ব্যবহারের কারণে গতকাল ১৮ মার্চ আয়োজন কমিটির লোকজনকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে আয়োজক কমিটির সদস্য ও খাদিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা কাওছার আহমদ জানিয়েছেন- অনেকের অনুমতি নিয়ে নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। আবার অনেকের নাম দেয়ার পরে অনুমতি নেয়া হয়েছিল। তবে আমরা বলেছি- এরপর তাদের নাম ব্যবহার করবো না। যেমন- মাইকিং, প্রচার-প্রচারণাতে তাদের নাম ব্যবহার করা হবে না।

মাওলানা কাওছার আহমদ শুক্রবার (১৯ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে বলেন, আমরা অনেককেই দাওয়াত দেয়ার পর নাম দিয়েছে। আর মোহাম্মদ আলী সাহের আমাদের মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে নাম রাখা হয়েছে। তবে ইউএনও অফিসে বৈঠকের পর আমরা তাদের বলেছি পরের প্রচার-প্রচারণায় আমরা আর নাম ব্যবহার করবো না।

আর জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন- পোস্টারে নাম দেয়ার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছিল- আর আমাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহেব আয়োজক কমিটির লোককে আমার কাছে নিয়ে এসেছিল। তবে যাকে নিয়ে এসেছিল সে জানানো হয়েছে বা হয়নি সেই বিষয়ে হ্যাঁ-না কিছুই বলেছি। সে শুধু বলেছে তাদেরকে জানানো হয়েছিল এখন তারা বলছে জানে না। সে এও বলছে এখন হয়তো পরিস্থিতির কারণে অতিথিরা না করছেন।

এদিকে সমাবেশ সফলের লক্ষে উপজেলাজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটানো হচ্ছে। করা হচ্ছে মাইকিং। তবে সমাবেশের আরও মাত্র দুদিন থাকলেও এখনও নেয়া হয়নি কোন অনুমতি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে হেফাজতে ইসলাম শানে রিসালাত নামে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে ভাস্কর-বিরোধী বক্তব্যে দিয়ে আলোচনায় উঠে আসা হেফাজত নেতা মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুমন দাশ নামের এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে যে স্ট্যাটাস দেন, তা হেফাজতের দৃষ্টিতে আপত্তিকর মনে হয়েছে। তারা পরদিন এর প্রতিবাদে সমাবেশও করেছে। প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে ঝুমন দাশকে গ্রেপ্তার করে।

তবে পরদিন ১৭ মার্চ মামুনুল হকের অনুসারী কয়েকশ যুবক, কিশোর লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগাঁও এর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় তারা ঘরে থাকা পারিবারিক মূর্তিসহ ভাঙচুর চালায় এবং সম্পদের ক্ষতি করে। তবে তাদের আগমন দেখে নোয়াগাঁও গ্রামের নারী-পুরুষ গ্রাম ছেড়ে হাওরে চলে যায়। যার কারণে কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি।

হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ডাকা হেফাজতের মহাসমাবেশকে ঘিরে ফের আতঙ্ক বাড়ছে ভাটির জনপদে।