মঙ্গলবার | ১১ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

মো. জাকারিয়া চৌধুরী, অতিথি লেখক

প্রকাশিত :

বসন্তের কোকিল আতিকে ‘কোমড় ভাঙা’ হবিগঞ্জ জাতীয় পার্টি

মো. জাকারিয়া চৌধুরী, অতিথি লেখক
প্রকাশিত :

বছরের পর বছর নেই যার নেতাকর্মীদের সাথে কোন যোগাযোগ এমনকি নেই কোন ফোনালাপও তিনি হলেন হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব আতিকুর রহমান আতিক। দলের সভাপতি’র দায়িত্বে থাকা এমন একজন নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিক্ষুদ্ধ জাতীয় পার্টিসহ হবিগঞ্জ জেলার সচেতন মহল। দলের জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ পদে থেকেও নেতাকর্মীসহ সমর্থকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ না থাকায় ফরে একদিকে যেমন দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্যদিকে দলের সমর্থন একেবারে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। এমতাবস্থায় দলটির হাল ধরতে স্থানীয় নেতাদের গুরুপ্তপুর্ণ ভূমিকা পালন করতে বলছেন তৃণমুলের কর্মী সমর্থকরা। যদিও গ্রুপিং লবিংয়ের কারণে বছরের পর বছর স্ব-পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন আতিক।

সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টিতে নেতাকর্মীদের তেমন সবর উপস্তিতিতে না থাকলেও গ্রুপিং লবিংয়ের কোন কমতি নেই। সারা বছর দলটির কোন কার্যক্রম না থাকলেও নির্বাচনের সময় ঠিকই দলের সর্বোচ্চ নেতারা টাকা উড়ান কাড়ি কাড়ি। যে কারণে নির্বাচনকেন্দ্রীক দলও হয়েগেছে হবিগঞ্জ জাতীয় পার্টি। আর এতে করে জনগণের আস্তাও হারাতে বসেছে দলটি। এছাড়াও দলটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপিং একেবারে স্পষ্ট। প্রায় দুই বছর পুর্বে আতিকুর রহমান আতিককে সভাপতি ও শংকর পালকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি দেয়া হলেও এখনও গ্রুপিংয়ের কারণে পুর্ণাঙ্গ হয়নি কমিটি। এমতাবস্থায় দলটি থেকে কোন নেতা বেড়িয়ে আসার সুযোগ পাচ্ছে না। অনেকেই আবার দল পরিবর্তন করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে যোগ দিচ্ছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে গ্রুপিং থাকার কারণেই এখনও পুর্ণাঙ্গ হয়নি সেই কমিটি। তাই ভাঙ্গাছোড়া কমিটি নিয়েই চলছে একেবারে সীমিত আকারে দলীয় কার্যক্রম। তবে দৃশ্যমান কোন কর্মসূচিই লক্ষ্য করা যায়নি হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টিতে। এমনকি গত কয়েকদিন আগে দলের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের ১ম মৃত্যু বার্ষিকীও একসাথে মিলে পালন করতে পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা। যদিও উপজেলা পর্যায়ে মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেছে বেশ কিছু নেতাকর্মী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা জানান, আতিক হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা নন। তাই তিনি নির্বাচনের সময় এলেই হবিগঞ্জ আসেন এবং লাখ লাখ টাকা খরচ করে মাঠ জমিয়ে তুলেন। যদিও ভোটের খাতায় প্রাপ্তি তার শূণ্য। তারা বলেন, নেতারা যদি কর্মী সমর্থকদের মন জয় না করতে পারে এবং সুখে দুঃখে পাশে না থাকে তা হলে ভোটের খাতায় প্রাপ্তি শূণ্য হওয়ারই কথা। তাদের অভিযোগ, আতিক হবিগঞ্জের একজন বসন্তের পাখি কোকিলের মত। হঠাৎ তার আসে আবার হঠাৎই চলে যায়। যে কারণে দলের এই চরম বিপর্যয়।

হবিগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছেন, এখনই যদি দলটি গ্রুপিং লবিং বন্ধ না করে তা হলেও দলটির সামনে আরো চরম বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাছাড়াও যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দিয়েই হবিগঞ্জবাসির উন্নয়নে কাজ করতে পারে দলটি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মিসবাউল বারী লিটন ‘ডেইলি বাংলাদেশকে’ জানান, ‘আমাদের দেশে সৎ যোগ্য ও জনকল্যাণ মুলক কাজ করে এমন নেতা পাওয়া খুবই কঠিন। রাজনীতি করতে হবে মানুষের কল্যাণে, নিজের জন্য নয়। তাই শুধু নির্বাচনের সময় সংসদীয় আসনে না এসে সবসময় নেতাদের সাধারণ জনগণের পাশে থাকতে হবে’।

নির্বাচনের সময় কাড়ি কাড়ি অর্থ উড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সুজনের পক্ষ থেকে জনতার মুখোমুখি একটি সেমিনার করে থাকি। যাতে জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। সেমিনারের মাধ্যমে আমরা জনগণকে অর্থের বিনিময়ে ভোট না দিতে নিরুৎসাহিত করি একই সাথে জনপ্রতিনিধিদের টাকার রাজনীতি না করে মানুষের জন্য রাজনীতি করার জন্য আহব্বান জানাই। এছাড়াও টাকার বিনিময়ে ভোট দিলে একদিন আমাদের সমাজ ধ্বংসের দারপ্রাপ্তে চলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি’।

এই বিভাগের আরো নিউজ

সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা!
সিলেটে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্য কারাগারে
বাতিল হচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা!
হবিগঞ্জ-সিলেট-সুনামগঞ্জের কৃষকরা পাচ্ছেন নগদ টাকা
সিলেটে আরও ৪৪ জনের করোনা শনাক্ত
সুনামগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু ২, বিভিন্ন জেলায় ৭
৬৭ যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেট আসলো বিমান
সিলেট-হবিগঞ্জ রুটে বাসভাড়া সমন্বয়

আজকের সর্বশেষ সব খবর