বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পূর্ব এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়া।

অনির্দিষ্টকালের এ নিষেধাজ্ঞা শুক্রবার থেকে কার্যকর থাকবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

দূতাবাসের ফেসবুক পেজেও নোটিশটি ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়ার হার বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তবে চিকিৎসা, পণ্যবাহী ও বিশেষ ফ্লাইটকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

এমন এক বাস্তবতায় বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞার কথা জানাল দক্ষিণ কোরিয়া।

গত ৫ এপ্রিল ঢাকার দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। ২০২১ সালের মার্চের শেষে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা কোরিয়া কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই বাস্তবতায় আবারও ভিসা স্থগিতাদেশের মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখলেও আন্তরিকভাবে তা এড়াতে চাইছে দূতাবাস।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘দূতাবাস কোরিয়ায় প্রবেশের আগে ও পরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ এড়াতে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরক্ষামূলক ও সতর্কতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কোরিয়া ভ্রমণকারীদের সক্রিয় ও স্বেচ্ছাসেবামূলক সহযোগিতার আশা করে।

‘আপনাদের সহযোগিতায় আমরা ২০২০ সালের জুনে কোরিয়ান ভিসা স্থগিতাদেশের মতো পরিস্থিতি এড়াতে চাই, যার ফলাফল অন্য বাংলাদেশিদের জন্য মারাত্মক হতে পারে।’

কোরিয়া সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর মার্চে ১৭ জন ও চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১০ জনের বেশি যাত্রী বাংলাদেশ থেকে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে কোরিয়া যান। দেশটিতে গিয়ে পরীক্ষায় তাদের পজিটিভ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী ওই বাংলাদেশিরা সরকারি তালিকা থেকে কোরিয়ান দূতাবাসের নির্ধারিত ১৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টা আগে পিসিআর পরীক্ষা করান। করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়েই ফ্লাইটে উঠেছিলেন তারা। তাদের কারও বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মোট কতজন কোরিয়ায় গেছেন, তাও জানা যায়নি।

কোরিয়া দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, কোরিয়ার বিমানবন্দরে নামার পর আবারও পিসিআর পরীক্ষা করতে হয়। পরীক্ষায় পজিটিভ হলে নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আর নেগেটিভ হলে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন যেতে হচ্ছে। কোয়ারেন্টিন শেষে আবারও পিসিআর পরীক্ষা করে ফল নেগেটিভ হলেই কর্মস্থলে যোগ দেয়া যায়।

প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে সরকার নির্ধারিত খরচ ৩০ লাখ উওনের (দুই লাখ ২৮ হাজার টাকা) বেশি। পরিস্থিতি সাপেক্ষে এক কোটি উওন পর্যন্তও খরচ হতে পারে। করোনা শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশিদের এখন এই ব্যয়ভার নিতে হচ্ছে।

পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ ফল আসার পেছনে মূলত ব্যক্তিগত আইসোলেশন বা হোম কোয়ারেন্টিন না মানার প্রবণতাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিটিতে কোরিয়ান দূতাবাসের পরামর্শে বলা হয়েছিল, কোরিয়ায় প্রবেশের দুই সপ্তাহ আগে অন্য যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ এড়াতে পরামর্শ দিচ্ছি, ব্যক্তিগত কোয়ারেন্টিন কঠোর ও দৃঢ়ভাবে পালন করুন। আপনার কোভিড-১৯ এর লক্ষণ থাকলে দয়া করে ভ্রমণের পরিকল্পনাটি পরিবর্তন করুন।