অভিন্ন ইতিহাস লালনের অংশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে উদযাপন করবে মুজিববর্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী। একই সঙ্গে দুই দেশের দুই জাতির পিতার প্রতি সম্মান জানাতে দুই দেশের যৌথ পরিচালনায় প্রদর্শিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধ-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশতম বার্ষিকীতে তাদের প্রথম ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এই অংশীদারিত্বের বিশেষ প্রকৃতির প্রতিফলন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদিকে পরের বছর (২০২১ সাল) এই উদযাপনে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদি গ্রহণ করেন।

যৌথভাবে উদযাপন উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত মুজিববর্ষের লোগোসহ একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

দুই দেশের জাতির পিতাদের প্রতি অনন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য, বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে একটি বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী পরিচালনা করছে যা তাদের জীবন, একই সংগ্রাম এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের অগ্রণী ভূমিকা প্রদর্শন করছে। এই ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীটি ভারত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর, বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘে যৌথভাবে প্রদর্শিত হবে।

উভয় দেশই মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর এবং পরের বছর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপনের জন্য সম্মিলিতভাবে স্মারক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং পাশাপাশি আগামী বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতে বঙ্গবন্ধু জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের শুটিং হবে।

সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।