মহামারিকালের দ্বিতীয় বাজেটে গ্রামের উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৩৮ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন, “৭ হাজার ৮৮৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০০৯ হতে জুন ২০২১ মেয়াদে সারা দেশে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের আওতায় ৫৬ লাখ ৭৯ হাজার পরিবারকে উপকারভোগী হিসেবে নির্বাচন, ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৫টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠন এবং সমিতিতে আবর্তক ঋণ তহবিল বাবদ ২ হাজার ৯৯১ কোটি ২৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্রমপুঞ্জিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ হাজার ৮০৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। পারিবারিক বলয়ে ৩২ লাখ ৪৯ হাজার আয়বর্ধক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষি খামার সৃজিত হয়েছে।

উপকারভোগীদের কৃষিজ উৎপাদনে বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫১৮ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃজনের জন্য বাছাইকৃত ৬৪ হাজার ২৩৫ জন গ্র্যাজুয়েট সদস্যের মাঝে মোট ৩২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।’

এ ছাড়া এ প্রকল্পের অধীন প্রতিষ্ঠিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রকল্পভুক্ত প্রায় ৫৭ লাখ সদস্যের দারিদ্র্য বিমোচনে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে এবং তাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তায় পরিণত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪১ হাজার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৩৮ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।’