প্রস্তাবিত বাজেট হাওরবান্ধব হলেও প্রত্যাশা মেটেনি হাওরবাসীর। বাজেটের সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে হাওরাঞ্চলের সমস্যা নিয়ে কাজ করা ‘পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা’।

জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শুক্রবার এক বিবৃতিতে হাওরের নানা সংকট তুলে ধরে সংস্থাটি।

সংস্থাটির সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে হাওরবাসীর জন্য বেশ কিছু সুখবর আছে। আছে অপ্রাপ্তির খবরও। কিন্তু যতটুকু সুযোগ-সুবিধা আছে তা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

তিনি বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘বাজেটে হাওর এলাকার জন্য শস্যবিমা চালুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিমার জন্য কৃষককে কোনো প্রিমিয়াম দিতে হবে কি না, তা বলা হয়নি। প্রিমিয়াম দিতে হলে হাওরের কৃষকের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

‘বাজেটে আরও ৬ লাখ টন ধারণক্ষমতার খাদ্যগুদাম তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। জলবায়ুসহিষ্ঞু কৃষির ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি ধানের ওপর জোর দেয়ার কথা বলা আছে। তবে এখানে চরাঞ্চল, উপকূল এলাকা, খরাপ্রবণ এলাকার কথা উল্লেখ থাকলেও হাওরাঞ্চলের কথা উল্লেখ নেই।’

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী হাওরাঞ্চলের জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা স্কিমের কথা বলেছিলেন। এবার বাজেটে এমন কিছু নেই। ওই বাজেটে হাওর, চরসহ পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এবার তা নেই।

‘হাওরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ২০১২ সালে ২০ বছর মেয়াদি “হাওর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা” গ্রহণ করে। তবে এ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে না। হচ্ছে না বাজেট বরাদ্দ।’

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি বলেন, ‘প্রজনন মৌসুমে হাওরে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলেদের প্রণোদনা দেয়ার দাবি ছিল হাওরবাসীর, তা এবারের বাজেটেও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।