জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ৫০তম প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব বিষয় গুরুত্ব পেলেও প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপেক্ষিত ছিল চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের বিষয়টি। অবহেলিত চা শ্রমিক জনগোষ্ঠির জীবন মান উন্নয়নে শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানালেও বিশেষ বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এতে এই জনগোষ্ঠি আরও পিছিয়ে পড়বে বলে আশংকা করছেন চা শ্রমিক নেতারা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের সবশেষ হালনাগাদ অনুযায়ি দেশে চা বাগানের সংখ্যা ২৪৬টি এবং চা শ্রমিকের সংখ্যা মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৮৪২ জন। বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিবন্ধনকৃত বাগানের সংখ্যা ১৬৭টি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে দেশে বর্তমানে বাগানের সংখ্যা ২৩১টি এবং নিয়মিত শ্রমিক ১ লাখ ৩ হাজার। তাদের দাবি, বাংলাদেশে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠি প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি।

বিশাল এই জনগোষ্ঠির শ্রমে-ঘামে দেশের অন্যতম অর্থকড়ি ফসলের উৎপাদন হয়। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল টি কমিটি প্রকাশিত ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী চা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে নবম। প্রতি বছর জাতীয় জিডিপির ১ শতাংশ আসে চা শিল্প থেকে।

চা শ্রমিক নেতারা বলছেন, বাংলাদেশে অবহেলিত হলেও চা শ্রমিক একটি বিশাল জনগোষ্ঠি। এই বিশাল জনগোষ্ঠি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। অথচ তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। জাতীয় বাজেটে চা শ্রমিকদের জন্য আলাদা বরাদ্দের জন্য বারবার দাবি জানালেও বরাদ্দ রাখা হয়নি।

বিভিন্ন সময় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে সোচ্চারও হয়েছেন চা শ্রমিকরা সংগঠনগুলো। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছেন স্বারকলিপিও।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘বাংলাদেশে অবহেলি একটি জনগোষ্ঠি চা শ্রমিক। ১৮০ বছর আগে ব্রিটিশরা চা শ্রমিকদের প্রলোভন দেখিয়ে এ দেশে এনেছিল। এরপর থেকে শোষণ-শাসনের শিকার বৃহৎ এই জনগোষ্ঠি। দেশের ভোটার হলেও চা শ্রমিকরা শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সকল মৌলিক অধিকার বঞ্চিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর পিছিয়ে পড়া এই চা শ্রমিক জনগোষ্ঠির উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখার দাবি জানাই। কিন্তু সরকার আমাদের সেই দাবি কখনো রাখেননি। এ বছর আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করেছি। জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট উত্থাপিত হয়েছে। আশা ছিল এবারের বাজেটে অন্তত চা শ্রমিকদের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকবে। এবারও আমরা নিরাশ হয়েছি।’

নৃপেন পাল বলেন, ‘সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব, বাজেটে আমরা নিরাশ হলেও চা শ্রমিকদের জন্য যেন বিশেষ নজর দেয়া হয়। অন্তত চা শ্রমিকদের শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেন সরকার বিশেষভাবে নজর দেন।’

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক যুবরাজ ঝড়া বলেন, ‘শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে সারাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখনও চা শ্রমিক শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত। নারীরা গর্ভকালিন সময় সঠিক চিকিৎসা পান না। যে কারণে মা ও শিশু অপুষ্টিতে ভুগে। চা শ্রমিকরা যেন এই অবহেলা থেকে মুক্তি পায় এর জন্য জাতীয় বাজেটে চা শ্রমিকদের জন্য আলাদা বরাদ্দা চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা বঞ্চিত হয়েছি।’