হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ঘুমন্ত স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশের সাড়াষি অভিযান চললেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামী। সেই সাথে ঘটনার কারণ নিয়ে রয়েছে দ্বিমত। স্কুলছাত্রীর পরিবার বলছে, বড় বোনের হত্যা মামলার সাক্ষি হওয়ায় এই হামলা। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, প্রেম ঘটিত কারণে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়েছে এক যুবক।

এদিকে, ঘটনার ক্লু সিহেবে স্কুলছাত্রীর ঘর থেকে এক যুবকের কাপড়, জুতা, মোবাইল ও কনডম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১০ মার্চ) ভোরে বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম গ্রামে ঘুমন্ত স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থার সকাল ১০টার দিকে তাকে সিলেটে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক।

পুলিশ জানিয়েছে, মারজানা আক্তার (১৬) স্থানীয় হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা মোস্তফা মিয়া মারা যাওয়ার পর জিবিকার তাগিদে তার মা অন্যত্র থাকনে। যে কারণে মারজানা একাই থাকত বাড়িতে।

মারজানার মা মাধুমালা জানান, তার বড় মেয়ে ফারজানাকে তিন বছর আগে একই এলাকার কয়েকজন হত্যা করে। সেই হত্যা মামলার সাক্ষী ছিল ছোট মেয়ে মারজানা। আসামিরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছিল। এ কারণেই মারজানার উপর হামলা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম বলেন, ‘স্কুলছাত্রীর পরিবার দাবি করছে পূর্ববিরোধের জেরে এ মামলার ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ মিত্যা। মূলত প্রেম ঘটিত কারণে এ মামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর স্কুলছাত্রীর ঘর থেকে এক যুবকের কাপড়, জুতা, মোবাইল ও কনডম উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে বাকি তথ্য অভিযুক্ত যুবকে গ্রেপ্তারের পর জানানো হবে।’

এদিকে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, একাধিক যুবকের সাথে মারজানার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন রাতে এক যুবকের সাথে সে রাত্রীযাপন করে। বিষয়টি জেনে অপর প্রেমিক তার উপর হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ শামীম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনার পরই আমি পুলিশের সাথে পরিদর্শনে যাই। কিন্তু এখনও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।’