দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : পলো, বাঁশ দিয়ে তৈরী মাছ শিকারের এক ধরণের ফাঁদ। এক সময় পলো দিয়ে মাছ শিকার করা বেশ জনপ্রিয় ছিল গ্রামীণ সমাজে। বিশেষ করে পৌষ-মাঘ মাসে বিল বা উন্মোক্ত হাওরে দল বেঁধে কাছ শিকার করা হতো। যাকে বলা হয় ‌পলো বাইছ বা পলো উৎসব। জলশয় শুকিয়ে যাওয়ায় এবং কালের পরিক্রমায় এখন সেই পলো বাইছ হারিয়ে গেছে। তবে এখনো হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বিলে এই পলো বাইছ অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রামীণ ঐতিহ্যকে লালন করে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের আতুকুড়া গ্রামের বড়আন বিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে পলো বাইছ। বেলা সাড়ে ১১টায় ঐতিহ্যবাহী এই পলো উৎসবে অংশ নিয়ছেনর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নানা বয়সের কয়েকশ’ মানুষ। পলো ছাড়াও বিভিন্নভাবে হাসি-আনন্দের সাথে মাছ শিকার করেছেন হাজার হাজার মানুষ।

শুধু মৎসজীবী নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শখের বসেই কনকনে শীতের মধ্যে মেমেছর মাছ শিকারে। শত বছররে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে বাঁচিয়ে রাখতে নদী রক্ষার দাবী তাদের। পাশাপাশি মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি তারা আহবান জানান।

দুই ঘন্টা ব্যাপী চলা এই উৎসব শেষে সবাই কম বেশি মাছ নিয়ে হাসি মুখে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। শৈল, গজার, বোয়াল, বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছসহ নানা প্রজাতরি মাছ ধরা পড়ে সেখানে। শুধু মাছ ধরেতই নয়, পলো বাইছ দেখতে আশেপাশের গ্রামের শতশত লোকজন ভীড় জমায় বড়আন বিলে।

 

হবিগঞ্জ পৌঁরসভার উমেদনগর এলাকার মাছ শিকারি মো. রমিজ আলী বলেন- ছোটবেলা দেখতাম অনেক বড় করে এই পলো পাইছ অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এখন আর আগের মতো বাইছও হয় না, আর মাছও পাওয়া যায় না। তবুও প্রতিবছরই এই পলো বাইছে আসি।

বালিখাল এলাকার বিমল দাস বলেন- এখানে মাছ ধরাটা মূখ্য নয়। হাজার হাজার মানুষের সাথে মাছ ধরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে খুবই ভালো লাগে। তাই প্রতিবছরই আসি। তবে যারা নিয়মিত মাছ ধরেন তাদের সাথে আমরা পারি না। কিন্তু সত্যি কথা ভালো লাগার কারণেই আসা।

একই এলাকার জুবায়ের আহমেদ বলনে, এলাকার নদী-নালা, খাল-বিল শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। তবে মাছ না পাওয়া গেলেও ভালো লাগে বলে প্রতি বছরই আসি।

তিনি বলেন- এটি বাঙালি ঐতিহ্যের একটি উৎসব। এই উৎসবকে ঠিকিয়ে রাখতে নদী-জলাশয় রক্ষাসহ মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।