দিনরাত প্রতিনিধি, বানিয়াচং : বানিয়াচংয়ের সিনিয়র সাংবাদিক ইমদাদুল হোসেন খানকে কাফনের কাপড় ও চিঠি পাঠিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকার হুমকি দেয়ার ঘটনায় নজিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সে উপজেলার পুকড়া গ্রামের হাফেজ মস্তোফা মিয়ার ছেলে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকার উমেদনগরের নিমরাজ মিয়ার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিমরাজ মিয়া তার শ্বশুর। ঘটনার সাথে জড়িত আরও অপরাধী রয়েছে উল্লেখ করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে গ্রেফতারকৃত নজিমকে রিমান্ডে আনার দাবি জানালেও পুলিশ রিমান্ডের আবেদন ছাড়াই কোর্টে চালান করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জানা যায়, বড়বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সম্পাদক এস.এম সাইফুল ইসলাম সেলিম গত ৩০ জুলাই ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি হচ্ছে, “বানিয়াচং সাবরেজিস্ট্রি অফিস কি চলছে দুর্নীতি মুক্ত? সাংবাদিক ও স্থানীয় জনসাধারণের একটু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” এই পোস্টের সূত্র ধরে সাংবাদিক ইমদাদ অনুসন্ধান চালান। অনুসন্ধানকালে তিনি তথ্য-প্রমাণ পান, স্বাধীনতার পূর্বে ভারত চলে যাওয়া সংখ্যালঘু হরিচরণ রায়ের পুকড়া মৌজার ২৩৯ খতিয়ানের ৬৪১ দাগের ফেলে যাওয়া ৪৫ শতক ভূমি ভুলবশত অর্পিত সম্পত্তি বা খাস খতিয়ানভূক্ত হয়নি। এ সুবাদে এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র সাবরেজিস্টার শংকর কুমার ধরের যোগসাজসে ভূয়া দাতা সাজিয়ে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাল ওয়ারিশান সনদ তৈরী করে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই ভূমি আত্মসাত করেছে।

এই অনুসন্ধানী সংবাদের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহকালে গত ৯ ডিসেম্বর মনির নামে জনৈক সিএনজি চালকের মাধ্যমে দুবৃত্তরা একটি ব্যাগের ভেতর কাফনের কাপড় ও চিঠি পাঠিয়ে সাংবাদিক ইমদাদকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি পরদিন বানিয়াচং থানায় একটি জিডি করেন (নং-৪২৭)। এর সূত্রধরে পুলিশ সিএনজি চালককে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে সিএনজি চালক মনির পুকড়া গ্রামের নজিম উদ্দিনকে কাফনের ব্যাগ প্রেরণকারী হিসেবে সনাক্ত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে গ্রেফতার করার পর গতকাল শনিবার কোর্টে চালান করে। গ্রেফতারের পর ঘটনার সাথে আরও লোক জড়িত আছে দাবি করে জিডি’র বাদী সাংবাদিক ইমদাদসহ এলাকাবাসী তাকে রিমান্ডে এনে অপরাপর হুমকিদাতাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানান। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চাপে রিমান্ড আবেদন ছাড়াই চালান করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই গৌতম সরকার বলেন, ওসি স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।