হবিগঞ্জের বাহুবলে মহাসড়কে উঠার অপরাধে এক অটোরিকশা চালককে ধাওয়া করে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় দ্রুত গতিতে পালাতে চাইলে মামুন পরিবহণের একটি বাস অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনটি চালক তোফায়েল মিয়া (১৮) নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও চারজন। এ সময় হতাহতদের উদ্ধার না করেই পালিয়ে যায় হাইওয়ে পুলিশের গাড়িটি। এমনকি মামুন পরিবহণের বাসটিকেও আটক করা হয়নি।

প্রথম অবস্থায় বাহুবল থানা পুলিশ জানায়, হাইওয়ে পুলিশের ধাওয়ার কারণেই এ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। পরবর্তীতে থানা পুলিশ তাদের বক্তব্য পরিবর্তন করে। তবে দূর্ঘটনার পর থেকেই শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসির নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

দূর্ঘটনার দৃশ্যটি রাস্তার পাশের একটি ব্রিকস ফিল্ডের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়। সেই ভিডিওটি দিনরাতনিউজ’র হাতে এসে পৌছেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, সিএনজিটিকে চাপা দেয় মামুন পরিবহণের একটি বাস। এ সময় শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ভ্যানটি রাস্তার বিপরিত দিক থেকে ঘুরিয়ে দূর্ঘটনা কবলিত সিএনজিটির কাছে যায়। তারা একটু থেমে বিষয়টি উপলব্ধি করেই পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ বাসটিকেও আটক করেনি। স্থানীয় লোকজন পুলিশের ভ্যান ও বাসটিকে ধাওয়া করলেও আটক করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে দূর্ঘটনার পর বাহুবল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আলমগীর কবির বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ সিএনজি অটোরিকশাকে ধাওয়া করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত হন।’

তবে রাত ৮টার দিকে বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামানা বলেন, ‘পুলিশের গাড়ি তাদের ধাওয়া করেনি। সিএনজিটিকে আটকাতে চায়। এ সময় মানুন পরিবহণের বাস সিএনজিকে চাপা দেয়।’

পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘পুলিশের পালিয়ে যাওয়া ও মামুন পরিবহণের গাড়িকে আটক না করা ঠিক হয়নি ‘

এর আগে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত সিএনজি অটোরিকশা চালক তোফায়েল মিয়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ সিএনজি শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন শ্রমিকরা। এতে রাস্তার দুই পাশে কয়েকশ’ যানবাহন আটকা পড়ে।

বেলা ৩টার দিকে বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, নির্বাহী কর্মকর্তা স্নীগ্ধা তালুকদার, ওসি কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের শান্ত করলে তারা অবরোধ তুলে নেন।