স্বামী সিএনজি চালিত অটোরিকসা চালানোর কারণে প্রায়ই রাতে বাহিরে থাকেন। এই সুযোগে চাচাতো দেবরের কুনজর পড়ে ভাবির উপর। একদিন রাতে ভাবির ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে রাখে দেবর।

এরপর ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ভাবিকে ধর্ষণ করে আসছে সে। অবশেষে নিজের বন্ধুদের দিয়েও ভাবিকে ধর্ষণ করাতে চাইলে রাজি হননি ওই নারী। এ সময় ভাবিকে মারপিট করলে প্রকাশ পায় সব ঘটনা।

ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তিনি জানান, ৫ বছর আগে বাহুবল উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামের জমির আলীর সাথে বিয়ে হয় তার। জমির আলী পেশায় সিএনজি চালিত অটোরিকসার চালক। প্রায়ই জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন। এ সুযোগে চাচাতো দেবর মৃত বেল্লা মিয়ার ছেলে ওয়াহিদ মিয়া (২২) তাকে বিরক্ত করত। প্রায়ই সে কুপ্রস্তাব দিতো। কিন্তু লজ্জায় তিনি বিষয়টি কাউকে জানাতেন না।

সম্প্রতি ওয়াহিদ মিয়া গভীররাতে ভাবির ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও করে রাখে। পরবর্তীতে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে ঘরে ও বিভিন্ন স্থানে নিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে আসছে।

গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে বাড়ির পাশে করাঙ্গী নদীর পাড়ে একটি ঝোপে নিয়ে যায় ভাবিকে। সেখানে ওয়াহিদ মিয়া নিজে ধর্ষণের পর তার তিন বন্ধুর সাথেও শারীরিক সম্পর্ক করতে বলে। এতে ওই নারী রাজি না হওয়া তাকে মারপিট করে ওয়াহিদ। এক পর্যায়ে ওই নারী চিৎকার করলে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে পৌছে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।

এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি সমাধানের কথা থাকলেও সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য ওই নারী হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ব্যাপারে বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ নেয়া হবে।