চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন।

গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আজিজুল ইসলাম।

তিনি জানান, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ চার দফা দাবিতে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা শনিবার সকাল থেকে আন্দোলন করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সেখান গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শফিউর রহমান মজুমদার জানান, সংঘর্ষে আহত কয়েকজনকে সকালে হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে গুলিবিদ্ধ চারজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আহত ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, সেখানে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, আহমদ রেজা, রনি হোসেন, মো. শুভ, মো. রাহাত ও মো. রায়হান।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে ও চীনা প্রতিষ্ঠান সেপকো ও এইচটিজির মধ্যে চুক্তি হয়। ২০১৭ সাল থেকে গণ্ডমারা এলাকায় প্রায় ৬শ একর জমিতে আড়াইশ কোটি ডলার ব্যয়ে এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

চুক্তি হওয়ার পর থেকেই গ্রামবাসীদের একটি পক্ষ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে। তারা বলে, এতে গ্রামের পরিবেশ দূষিত হবে। আরেক পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পক্ষ নেয়।

এর জেরে ২০১৬ সালের এপ্রিলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। তা নিয়ন্ত্রণে যায় পুলিশ। তখন নিহত হন চার গ্রামবাসী। আহত হয় পুলিশসহ অন্তত ১৯ জন।

এ ঘটনার পাঁচ বছর আবারও রণক্ষেত্র হলো বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা।