দিনরাত ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ককে অবৈধ উল্লেখ করে নতুন একটি আইন পাশ করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। তবে এই আইনের বিরোধিতা করেছেন দেশটির হাজারো নাগরিক। আইনটির বিরোধিতা করতে মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার রাস্তায় নেমে পড়েন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি ছিল।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়লে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, মূল বিক্ষোভ হয় রাজধানী জাকার্তায়। এ সময় তারা সংসদের স্পিকার বামবাং সোয়েসাতেয়ো’র সাথে দেখা করার দাবি জানান। জাকার্তা ছাড়াও সুলাওয়েসি দ্বীপের ইয়োগিয়াকার্তা ও মাকাসাসহ আরও কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভ চলাকালীন এক নারীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা দেখা যায়, ‘আমার দেহ কোনো সরকারের সম্পত্তি নয়।’

পশ্চিম জাভা’র ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী ছাত্র ফুয়াদ ওয়াহইউদিন বলেন, ‘দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা দুর্নীতির বিরুদ্ধে নয় বরং দুর্নীতিবাজদের পক্ষে। এই নতুন আইনের বিরোধিতা করতে সংসদে যাবো আমরা।’

মঙ্গলবার সংসদে এই বিলটির বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো শুক্রবার পর্যন্ত ভোট স্থগিত করেন।

তিনি বলেন, ‘নতুন আইন বাস্তবায়নের আগে বিষয়টি আরও বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

নতুন এই আইনটি পাশ হলে বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শাস্তি হিসেবে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

বিয়ে ছাড়া একসাথে বসবাসের ক্ষেত্রেও ছয় মাসের কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতের মতো প্রতীক অবমাননা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অকাল গর্ভপাতের ক্ষেত্রেও চার বছরের জেলের বিধান রাখা হয়েছে যদি না সেখানে জরুরি চিকিৎসা বা ধর্ষণজনিত কারণে গর্ভবতীর মতো অবস্থা হয়ে থাকে।