কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

একটি মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট। রায়ে বিয়ের ‘প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের’ অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত ও একান্ত যৌন সম্পর্কের প্ররোচনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে না।’

পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বিভু বাখ্রু বলেন, ‘অভিযোগকারী নারী যদি কিছু সময়ের জন্য নিজেকে অভিযুক্তের যৌন কামনার শিকার বলে মনে করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচিত করার মতো অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

‘এ ধরনের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একপক্ষ মানসিকভাবে রাজি না থাকার পরেও অন্য পক্ষের বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক তৈরিতে সম্মতি দিতে পারে।’

আদালত বলেছে, স্বল্প সময়ের এই ‘সম্মতি’র ক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভনের মতো বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক সম্মতি আদায়ের অভিযোগ তুলতে পারবে এবং ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের মামলা করা যাবে।

“তবে একটি পক্ষ অপরপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্কের মধ্যে থাকলে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকলে, বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভনের কারণে ‘অনিচ্ছুক শারীরিক সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।”

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মামলায় বিচারিক আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি খালাস পাওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন বাদী। তবে বিচারপতি বিভু বাখ্রুর বেঞ্চ সম্প্রতি এক রায়ে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।

হাইকোর্টের সেই রায়ের পর্যবেক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার।

মামলায় সংক্ষুব্ধ নারী অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হয়। এর তিন-চার মাস ওই ব্যক্তি তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। তবে পরে ওই ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভেঙে অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন।