কুষ্টিয়া সদরে এক ব্যবসায়ীর গুদামে পাওয়া গেছে সাড়ে ১৩ টন সরকারি চাল। চাল পাওয়ার পর পুলিশ গুদামটি বন্ধ করে দিয়েছে।

উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের কবুরহাট মাদ্রাসা পাড়ার ওই গুদামে বৃহস্পতিবার রাতে চালের বস্তা পাওয়া যায়।

গুদামটির মালিক আবু তালেব। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল খুনকার তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে এটি ব্যবহার করে।

স্থানীয় লোকজন প্রথমে সাইফুলের গুদামে রাখা ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান লেখা ও খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা বস্তায় চালের বিষয়টি টের পেয়ে সাংবাদিকদের জানায়। এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

পরে ৯৯৯ এ ফোন দিলে জগতী পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী ঘটনাস্থলে যান।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবীর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে গুদাম পরিদর্শন করে তা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

তিনি জানান, খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত টিম আসবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইফুলের দাবি, তিনি কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন থেকে ৩৮ টাকা দরে চাল কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।

কিন্তু চাল কেনার কোনো বৈধ কাগজ তিনি দেখাতে পারেননি।

বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম এ মোমিন মণ্ডল বলেন, ‘এই চাল কীভাবে ওখানে গেল তা আমার জানা নাই। এটা রেশন বা দুঃস্থদের চাল হতে পারে। যদি ক্রয়ের চালান না থাকে তাহলে এটা অবশ্যই অবৈধ।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি। জেলা ফুড অফিসকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।’

জেলা সদর খাদ্য পরিদর্শক জহুরুল আলম জানান, গুদামটি পুলিশের তত্ত্বাবধানে আছে। কোনো পরিবর্তন না করে এটি যেমন আছে তেমন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।