ভারতীয় মাদকের নিরাপদ ‘হটস্পট’ এখন চুনারুঘাট সীমান্তের কারিসা বস্তি, রেমা ও মোকামঘাট। ওই স্পট দিয়ে সমগ্র জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ মাদক কারবারি আইনশৃংলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর স্পটটির ভয়াবহতা দৃশ্যমান হয়। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

আইনশৃঙ্খলা বাহীনি বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ৩ মাসে রাগব-বোয়ালসহ ২৫ জন মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় আলী হোসেন, আক্তার মিয়া ও জমির উদ্দিনসহ কয়েকজন দাবি করেন, এখানে কয়েকজন শক্তিশালী মাদক ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটর মাধ্যমে মাদব পাচার করে আসছেন। ওই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাদেরকে হুমকি-ধামকি দেয়। অনেক সময় মারপিটও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

তারা জানান, মাদক ব্যবসায়িদের শেকড় এতই শক্তিশালী যে, আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছ থেকে মাদকসহ আসামী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে ইতিপূর্বে।

এদিকে, সম্প্রতি স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের স্ত্রী ও কয়েকজন নারী গাঁজাসহ আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। চলমান লকডাউনের মধ্যেও গত বুধবার রাতে হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ধারী জলক ও তার সহযোগী ফারুক মোকামঘাট থেকে ফেন্সিডিলসহ আটক করে চুনারুঘাট পুলিশ।

চুনারুঘাট সীমান্তের ঐতিহ্যবাহী গাজিপুর হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসের বলেন, ‘রেমা ও মোকামঘাট এলাকা দিয়ে যেভাবে দিন দিন মাদক ব্যবসায়া বৃদ্ধি পাচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক। এখনই তাদের দৌরাত্ম্য না থামালে আগামীদিনের সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের নতুন প্রজন্ম মাদকাসক্ত হয়ে পড়বে।’

দলমত ও স্বজনপ্রীতির উর্ধ্বে গিয়ে প্রশাসনকে চিরুনি অভিযানের অভিমত জানান তিনি।

চুনারুঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান চৌধুরীর বলেন, ‘চুনারুঘাটে যে হারে মাদক বাড়ছে তাতে যুব সমাজকে নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত। তাদেরকে রক্ষা করতে হলে মাদকের ছোবল থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে। এজন্য মাদক ব্যবসা নির্মুলে প্রশাসনকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।’

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল সামিউন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে। মাদক বন্ধে সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতামুলক সভা ও আত্মসমর্পনকারীদের পূর্নবাসনের চিন্তাও করা হচ্ছে। পূর্বের তুলনায় মাদক ব্যবসা অনেক কমে আসছে। আশা করি আগামী কয়েক বছরের ভেতরে চুনারুঘাট সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার চিরতরে নির্মুল হয়ে যাবে।’

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আশরাফ বলেন, ‘যেহেতু চুনারুঘাট উপজেলাটি সীমান্ত এলাকা, সেহেতু পুলিশ অন্যান্য কাজের সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত ৩ মাসে রাগব-বোয়ালসহ ২৫ জন মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’