● লাভবান হবে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প

● সরকারি সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণের নেতিবাচক প্রভাব

দিনরাত আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো হবে।

রোববার (১৩ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ‘গ্রোথ ইন সাউথ এশিয়া স্লোডাউন’ নামের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইকোনোমিক টাইমস, ইন্ডিয়া টুডেসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। সেখানে ভারতের জিডিপি হতে পারে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমতে পারে বলেও আভাস দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। তবে এই অঞ্চলে বাংলাদেশের চেয়ে শুধু ভুটানের জিডিপি বেশি হতে পারে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সরকারি বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় ভারতের প্রবৃদ্ধি কমবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছর জোরালো অভ্যন্তরীণ চাহিদা অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখলেও তাতে ভাটা পড়েছে। এর প্রভাব পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পড়বে। এর প্রভাবে চলতি বছর ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যানস টিমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে ব্যাপক লাভবান হতে পারে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প।

তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত থেকে সাধারণভাবে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হলো পুরো অঞ্চল বিশেষ করে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের থেকেও ভালো করছে বাংলাদেশ। শিল্প উৎপাদনে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি, রফতানিতে তা দেখতে পাচ্ছি।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টিগ স্কফার বলেন, শিল্প উৎপাদন ও আমদানি কমার পাশাপাশি আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দা ত্বরান্বিত করেছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণকে অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করায় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১৮ সালের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি অর্থবছর ৮ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক। ২০২০ ও ২০২১ সালে এই প্রবৃদ্ধির পরিমাণ যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৩ হতে পারে।

নেপালে চলতি বছর বার্ষিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ আর পরের বছর এর পরিমাণও বাড়তে পারে। দেশটিতে প্রচুর পর্যটকের আনাগোনা ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় গতিশীল সেবা ও নির্মাণ কর্মকাণ্ড প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।