রনিক পাল, ওসমানীনগর : ওসমানীনগরে মাথা বিহিন তরুণীর লাশ উদ্ধারের ১ সপ্তাহ পর মাথা উদ্ধার এবং ১৫দিন পর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তরুনীর স্বামী মুজাম্মিলকে (২৪) গ্রেফতার করেছে ওসমানীনগর পুলিশ।

সে উপজেলার দক্ষিণ কলারাই গ্রামের মৃত জিলু মিয়ার ছেলে। খুন হওয়া তরুনীর নাম স্বর্ণা সাহা ওরফে শাহনাজ।

প্রাথমিক অবস্থায় লাশের পরিচয় বা ঘটনার কোন রহস্য পাওয়া না গেলে পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্তে গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে নিজ এলাকা থেকে মুজাম্মিলকে আটক করে পুলিশ। পরে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এরপর মুজাম্মিলকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল আদালতে প্রেরণ করা হলে সেখানে সে ১৬৪ধারা জবানবন্দি প্রদান করে।

সূত্রে জানা যায়, কয়েকমাস পূর্বে এক খ্রিস্টান স্বর্না ধর্মান্তরিতের মাধ্যমে বিয়ে করে ঘরে তুলে পেশায় রাজমিস্ত্রি মুজাম্মিল। বিয়ের ক’দিন পর থেকেই মুজাম্মিল মিয়া যৌতুক বাবদ ২লক্ষ টাকা এনে দিতে স্ত্রীকে চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু পরিবারের সবাইকে লুকিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি ছাড়া স্বর্ণা সাহা ওরফে শাহনাজের পক্ষে সে টাকা যোগাড় করা সম্ভব ছিলো না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলোহ ছিলো দির্ঘদিনের । প্রায়ই স্বর্ণা সাহা ওরফে শাহনাজকে দৈহিক নির্যাতন করতো স্বামী মুজাম্মিল।

গত ৩০নভেম্বর বিকেলের পর থেকে স্বর্ণা সাহা ওরফে শাহনাজ কে তার স্বামীর বাড়িতে দেখা যায়নি বলে এলাকার অনেকেই জানান। তাদের ধারণা করা হয় ওই রাতেই মুজাম্মিল তার স্ত্রীকে খুন ও মাথা
বিচ্ছিন্ন করে ৩কিলোমিটার দূর জুগির বিল নামক স্থানে পুতে রাখে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত ) এসএম মাইন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- তদন্তের স্বার্থে একন বেশী কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।

উল্যেখ্য, গত ২ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির জুগির বিল থেকে মাথা বিহিন এক তরুণীর (২০) বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিলের জমিতে পানির মধ্যে ঘাস দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ছিলো তরুণীর পোষাক বিহিন লাশটি। পরবর্তীতে ১০ডিসেম্বর দুপুরে একই জায়গা থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।