জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকায় এসেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি অবতরণ করে।

বিমান থেকে নামলে শেরিংকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় শেরিংয়ের সম্মানে ২১টি গান স্যালুটসহ গার্ড অফ অনার দেয়া হয়; বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত।

বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে লোটে শেরিং বাংলাদেশে আসার আগেই দেশটির রয়্যাল একাডেমি অব পারফর্মিং আটর্সের (রাপা) ২২ শিল্পী ও চারজন সাংবাদিক ১৯ মার্চ ঢাকায় আসেন।

বিমানবন্দর থেকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরাসরি যাবেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সেখানে তিনি দর্শনার্থী বইতে সই করবেন; রোপণ করবেন একটি গাছের চারা।

সেখান থেকে তিনি যাবেন হোটেল প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁওয়ে। ঢাকায় অবস্থানকালে সেখানেই থাকবেন ডা. শেরিং।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় হোটেল সোনারগাঁওয়ের হলরুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশ ভোজে যোগ দেবেন শেরিং।

বুধবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকবেন।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ভুটান বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সূচনা হয়।

পরে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও উচ্চপর্যায়ের নেতাদের অব্যাহত সফর বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে দেশটির সঙ্গে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল আমানুর রহমান জানান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং ২৫ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় থাকবেন।

এ ছাড়া ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক ছাড়াও প্রতিনিধি পর্যায়ের সংলাপ হবে। সার্বিক বিবেচনায়, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে বিবেচিত হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা চলছে।

এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এরই মধ্যে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মেদ সোলিহ ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বাংলাদেশ সফর শেষে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। বর্তমানে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবি ভান্ডারি বাংলাদেশ সফর করছেন।

এ ছাড়া ২৬ মার্চ সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে।