হবিগঞ্জ শহরের চিড়াকান্দি এলাকার ‘মঞ্জুরি ভবনে’ হামলা ও ভাংচুর যুবলীগ-ছাত্রলীগ করেনি। সুশান্ত দাশগুপ্তের লোকজনেই হামলা চালিয়ে তা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম।

রোববার বিকেলে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, গত ১৯ এপ্রিল শহরের চিড়াকান্দি এলাকার ‘মঞ্জুরি ভবনে’ যে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে সেটি যুবলীগ-ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী করেনি। দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক সুশান্ত দাশগুপ্ত তার নিজের লোকদের দিয়ে হামলা-ভাংচুর করে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

সেলিম বলেন, ঘটনার দিন হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় হেফাজত কর্মীরা হবিগঞ্জে তান্ডব চালাতে পারে আশঙ্কা করে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে মানুষকে সচেতন ও মাস্ক বিতরণ করেন তারা। এ সময় সুশান্ত দাশগুন্ত ও তার লোকজন শহরের চিড়াকান্দি এলাকায় অবস্থান নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যুবলীগ-ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক উষ্কানি দিতে থাকে এবং সেখানে যাওয়ার আহবান জানায়।

এ সময় দু’একজন যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সেখানে গেলে সুশান্ত দাশগুপ্ত ও তার লোকজন হামলা চালায়। খবর পেয়ে তাদের রক্ষা করতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গেলে সুশান্ত ও তার লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। এতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এখনও তারা সিলেট ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি রয়েছে।

মেয়র বলেন, এ ঘটনার ঘর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও স্বাভাবিক করতে আমি সেখানে গেলে সুশান্ত দাশ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় সুশান্ত ও তার লোকজন তার শ্বশুরের ‘মঞ্জুরি ভবনে’ হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

এছাড়াও তিনি লিখিত বক্তব্যে সুশান্ত দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। পাশাপাশি সুশান্ত দাশগুপ্তকে গ্রেপ্তার ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল হবিগঞ্জ শহরের চিড়াকান্দি এলাকায় সুশান্ত দাশের লোকজনের সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুশান্ত দাশগুপ্তের শ্বশুরের ‘মঞ্জুরি ভবনে’ হামলা ও ব্যপক ভাংচুর হয়। আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন।

এ ঘটনায় ২১ এপ্রিল রাতে পুলিশ বাদি হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ২শ’ জনের বিরুদ্ধে একটি পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর পর পরই অভিযান চালিয়ে পৌর সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান সানি ও কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল বীনকে আটক করে পুলিশ।