দিনরাত প্রতিবেদক : মহিষমর্দিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের পূজা গ্রহণের জন্য স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে এসেছেন। শুক্রবার ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে দেবীর অধিষ্ঠান দেয়া হয়েছে। এ সময় চারদিকের পূজামণ্ডপ থেকে কানে বেজেছে কাসর ঘণ্টা, শাঁখ, উলুধ্বনি আর ঢাকের আওয়াজ। বছর ঘুরে দেবী দুর্গা এসেছেন বাপের বাড়িতে ছেলেকে-মেয়েকে নিয়ে ঘোটকে চড়ে। আগামী মঙ্গলবার বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি থেকে ফিরে যাবেন স্বামীর বাড়ি কৈলাসে ঘোটকে চড়ে।

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চন্ডীপাঠ, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ঢাক-ঢোলের বাজনা, উলুধ্বনির মাধ্যমে বর্ণিল আয়োজনে ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবী দুর্গার ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে পালন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যরা গতকাল সকাল থেকে নগরের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

আজ শনিবার মহাসপ্তমী। সকালে দেবীর নবপত্রিকায় প্রবেশের মাধ্যমে শুরু হয় মহাসপ্তমী পুজা। প্রতিটি পূজামণ্ডপেই সপ্তমীপূজা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলছে। সপ্তমি তিথি পূর্বাহ্ন ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে কিন’ কুলিকবেলানুরোধে দিবা ৭টা ৩৭মিনিট গতে ৮টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দুর্গা দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্নান, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ, ও সপ্তমীবিহিত পূজা প্রশস্তা। পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি প্রদান করেন। দেশ ও দশের মঙ্গল কামনার্থে করা হয় সমবেত প্রার্থনা।

আজ সকাল থেকে পূজা মণ্ডপগুলো ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। নতুন জামা কাপড় পড়ে ঘুরে বেড়াবেন মণ্ডপগুলো। দর্শন করবেন দেবী দুর্গাকে, কৃপা প্রার্থনা করবেন কল্যাণ, সুখ ও সমৃদ্ধির কামনায়। সন্ধ্যায় ঢাক-ঢোলের তালে কোমর দোলাবেন শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা।