প্রতিবারের মতো এবারও আসন্ন রোজার ঈদকে সামনে রেখে বেশি বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। গত দুই দিনেই অর্থাৎ ১ ও ২ মে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন তারা।

আর এই রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৫ বিলিয়ন (৪ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

সোমবার দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

এই রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসেবে ১১ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়।

অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে এ মহামারির মধ্যে রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য `খুবই ভালো খবর জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, `শুধু রেমিট্যান্স -রিজার্ভ নয়; রপ্তানি-আমদানিসহ অন্য সূচকগুলোও উন্নতি হচ্ছে। আশা করছি, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কাও শিগগিরই আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।

মূলত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই রিজার্ভ এই নতুন উচ্চতায় উঠেছে। আর এ জন্য আমি আবারও প্রবাসী ভাই-বোনদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এ ছাড়া রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা এবং বিদেশি ঋণ-সহায়তা বৃদ্ধি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে আশার কথা শোনান অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে ২০৬ কোটি ৭০ লাখ (২.০৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৮৯ শতাংশ বেশি।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। মার্চের শেষের দিকে তা আবার ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। ১৫ ডিসেম্বর ৪২ মিলিয়ন এবং ২৮ অক্টোবর ৪১ বিলিয়ন অতিক্রম করে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত এক বছর দুই মাসেই রিজার্ভ বেড়েছে ১৩ বিলিয়ন ডলার।

মহামারির মধ্যেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পণ্য রপ্তানি থেকে ২৮ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের প্রায় সমান।

আর অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বিদেশি ঋণ বেড়েছে ৯ শতাংশের মতো।

অন্যদিকে এই আট মাসে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমেছে।