দিনরাত প্রতিনিধি, মাধবপুর : হবিগঞ্জের মাধবপুর ভারতসীমান্ত ঘেষা পূর্বাঞ্চল তেলিয়াপাড়া ষ্টেশন বাজার এলাকাটি এখন মাদক চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে। নির্বিবাদে চলছে মাদকের কেনা বেচা। মাঝে মধ্যে শুধু র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি অভিযানে কিছু মাদক দ্রব্য ধরা পড়লেও মাদক চোরাচালানের মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। চোরাকারবারীরা নিজস্ব লোক দিয়ে মোবাইল ফোনের আর্শীবাদে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ধর্মঘর থেকে বাঘাসুরা পর্যন্ত এ চক্রের শতাধিক সদস্য এ পেশায় সক্রিয় রয়েছে।

উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চিহ্নতদের মধ্যে পশ্চিম তেলিয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছোবান মিয়ার ছেলে নায়িম মিয়া (২০) বিরুদ্ধে ২৮/২০১৯, বনগাঁও গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র ছাবু মিয়া (৩৯) বিরুদ্ধে ২১/২০১৭, ১২/২০১৮, ০৭/২০১৯ ভান্ডারুয়া গ্রামের মৃত ধনু মিয়ার পুত্র জামাল মিয়া (৩৮) বিরুদ্ধে ০৬/২০১১, ১৯/২০১৩, ২৪/২০১৪, ২৮/২০১৮, তেলিয়াপাড়া ডাক বাংলা রোডের কাপড় ব্যবসায়ী (শর্ম্মা ম্যানসন) মোঃ ফয়সল মিয়া (২৮) বিরুদ্ধে ২৬/২০১৯ দেওয়ান আব্দুল সাত্তারের ছেলে দেওয়ান রনি (২১) বিরুদ্ধে ০৯/২০১৯, রতনপুর গ্রামের মৃত তাজ উদ্দিনের ছেলে মাদক সম্রাট মোঃ ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে ৫/২০১৯ মাধবপুর থানায় মাদক দ্রব্য মামলা রয়েছে। মাধবপুর পূর্ব সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদক সম্রাট ছাবু মিয়ার বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় মামলা নং ২৪/২০১৮, ১০/২০১৯, ৬/২০১৯ ও মাদক সম্রাট জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় ২৬/২০১৩, ১৮/২০১৭, ৫/২০১৮ মামলা রয়েছে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সীমিত লোকবলের কারণে অবৈধ চোরাচালান ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। মাদক ব্যবসায়ীরা সাতছড়ি, তেলিয়াপাড়া চা বাগান, মিশন লাইন, বনগাঁও, ভান্ডারুয়া, লোহাইদ, জালুয়াবাদ ও শ্রীধরপুর সীমান্ত এলাকায় তারকাটা বেড়া ভেদ করে বিশেষ কৌশলে দেশের অভ্যন্তরে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও শাড়ী কাপড় আনছে।

এসব ভারতীয় চোরাই পণ্য ট্রেন, লাইটেস, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল যোগে তেলিয়াপাড়া সাবেক মহাসড়ক হয়ে জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর বাস টার্মিনালে পৌঁছে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। অথচ তেলিয়াপাড়া রেল ষ্টেশন থেকে আধা কিলোমিটার সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির একটি ক্যাম্প রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেরা মাদক চোরাচালান ব্যবসা শুরু করলেও চলাফেরা বেশভূষা দেখে বুঝার উপায় নেই যে তারা মাদক সম্রাট ও চোরাকারবারীদের সাথে জড়িত। তাদের নেতৃত্বে এসব সীমান্তে হচ্ছে বড় ধরনের চোরা চালানের ব্যবসা। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছে বেশ কয়েকজন।

ভারত থেকে আসা বিভিন্ন মাদক দ্রব্য বিভিন্ন স্থানে মজুদ করে রেখে সময় সুযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সেবন ও ক্রয় করতে উঠতি বয়সের যুবকদের বিকেল হলেই গভীর রাত পর্যন্ত আনাগোনা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়।

এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কোন ক্রমেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।