হবিগঞ্জে পরিবেশ দুষণের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জেলায় গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের দুষিত বর্জ্যে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে খাল-বিল, নদী-নালা। এসব দুষিত পানিতে নেমে মারা যাচ্ছে হাঁস-মুরগ ও গবাদি পশু।

সোমবার ‘পানি দিবস’এ মাধবপুরে একটি খালের পানি পান করে গরুর বাছুর মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন এক্তিয়ারপুরে দিন মজুর কৃষক মো. রেনু মিয়ার গৃহ পালিত একটি গরুটি বাছুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চল খালে পানি পান করে। এ সময় বিষাক্ত পানি পান করার কারণে বাছুরটি মারা যায়। এ ঘটনায় ওই এলাকার কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন পরিবেশবাদিরাও।

কৃষক মো. রেনু মিয়া বলেন, ‘আমার একটিমাত্র বাছুর ছিল। এক্তিয়ারপুর খালের পাশে একটি মাঠে এটি প্রতিদিন ঘাস খায়। ঘাস খাওয়ার এক পর্যায়ে বাছুরটি খালে পানি পান করে। এতে বাছুরের পেট ফোলে যায়। পরে আমাদের গ্রামের পল্লী চিকিৎসকে ডেকে আনলে তিনি জানান বাছুরটি মারা গেছে।

পল্লী চিকিৎসক ডা. দুলাল মিয়া তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘এক্তিয়ারপুর খালের পানি খুবই দুষিত। এ খালের পানি পান করে বাছুরটি মারা গেল।’

পরিবেশ কর্মী ও এক্তিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা ‘মার লিমিটেড’ কোম্পানীর দুষিত পানি এক্তিয়ারপুর খালে পড়ছে। এতে খালের পানি একেবারে কুচকুচে কালো আকার ধারণ করেছে। এছাড়া গ্রামের মানুষ এই খালের পানি দিয়ে কৃষিকাজসহ কোন ধরণের কাজই করতে পারছেন না। বিভিন্ন সময় ওই খালে নেমে হাঁস-মুরগ মারা গেছে। কিন্তু এখন একটি বাছুর মারা গেল। যে খুবই উদ্বেগের বিষয়। বিষয়টি গ্রামের মানুষের মধ্যে জানাজানি হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘প্রাকৃতিক গ্যাস, কৃষিজমির সহজলভ্যতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকার জন্য এই অঞ্চলের বৃহৎ এবং মাঝারি আকারের কলকারখানা গড়ে উঠেছে। জেলার বিশাল এলাকা নিয়ে কল কারখানা গড়ে উঠলেও কার্যত এগুলোকে নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। কলকারখানার মাধ্যমে সব ধরণের দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুমে হাওর অঞ্চলে জলজ প্রাণী দেশি মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। অসহনীয় দুর্গন্ধ এবং দূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে গেছে বহুগুণ। শ্বাসকষ্ট চর্মরোগসহ নানান ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্রাণ-প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে।’