দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : মাধবপুরে দুই শিশুর মধ্যে জগড়ার ঘটনায় আব্দুল্লাহ (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) সহ মুরব্বিয়ানরা ৪ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফাদফা দেয়ার অভিযোগও এসেছে দিনরাত নিউজের কাছে। তবে পুলিশ নিহতের ঘটনাটি স্বীকার করে জানায়- অভিযোগ না পাওয়ার কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

নিহত আব্দুল্লাহ মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের জাকির মিয়ার ছেলে।

সূত্রে জানা যায়- গত মঙ্গলবার বিকেলে মাঠে খেলতে গিয়ে জগড়া হয় আব্দুল্লাহ ও একই গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে রাব্বির (৭)। এক পর্যায়ে রাব্বি একটি পাথর নিক্ষেপ করে আব্দুল্লাহ উপর। পাথরটি আব্দুল্লাহ মাথায় প্রচণ্ডভাবে আঘাত হানে। এতে সে গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়।

এদিকে, তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয় আব্দুল্লাহ পরিবার। এ সময় ইউপি সদস্য মুখলেছুর রহমানসহ স্থানীয় ময় মুরব্বিরা বিষয়টি সমাধানের উদ্যাগ গ্রহণ করেন। রাতভর আলোচনা শেষে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমাধান হয়। এই টাকা রাব্বির পরিবার আব্দুল্লাহর পরিবারকে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিলে মামলা করা থেকে বিরত থাকে নিহত আব্দুল্লাহ পরিবার। পরে বুধবার সকালে তার লাশ দাফন করা হয়।

অপরদিকে, বুধবার ঘটনার খবর পেয়ে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে যায় মাধবপুর থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ নিহত আব্দুল্লাহর পরিবারকে তার মৃত্যু নিয়ে কথা বললে তাদের কোন অভিযোগ নেই বলে জানায়। ফলে অসহায়ের মতো ফিরে আসতে হয় পুলিশকে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুখলেছুর রহমান বলেন- ‘একটি শিশু অন্য একটি শিশুকে মেরেছে। তাই থানা পুলিশে না গিয়ে সামাজিকভাবে বিষয়টি মিমাংশা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোন টাকা-পয়সা লেনদেন হয়নি।’

ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামছুল ইসলাম বলেন- ‘বর্তমানে আমি ঢাকায় আছি, তবে স্থানীয় একজনের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি।’ যে শিশুটি মারা গেছে তার পরিবার অতি দরিদ্র। যার কারণে মামলা মোকদ্দমায় না গিয়ে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয়রা শেষ করে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন- ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নিহত শিশুর পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন- ‘শিশুর আঘাতে শিশুর মৃত্যু হওয়ার কারণে পুলিশও বাদি হয়ে মামলা করতে পারছে না।’