মার্কিন নাগরিকের সাথে প্রতারণার অভিযোগে মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় জামিল আহমদ (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বড়লেখা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে রতুলী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জামিল আহমদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সোনা মিয়ার ছেলে।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বলেন, ‘গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রতারণার শিকার মার্কিন নাগরিকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মারুফ হাসান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বড়লেখা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় জামিল আহমদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন নাগরিক মাইকেল ডেভিস দুবাইতে বসবাস করেন। বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা জামিল আহমদ দুবাইতে ওই মার্কিন নাগরিকের অধিনে কাজ করতেন। কাজের একপর্যায়ে ডেভিসের সাথে জামিলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জামিল আহমদ হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিফোন, ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই মার্কিন নাগরিকের নামে আজেবাজে মন্তব্য প্রচার করতে থাকেন। বিভিন্নভাবে মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন করায় বাধ্য হয়ে তিনি তাকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার প্রদান করে আপোষ করে। এসময় জামিল আহমদ লিখিতভাবে অঙ্গিকার করেন যে, তিনি ভবিষ্যতে মাইকেল ডেভিসকে কোনো প্রকার বিরক্ত ও ব্ল্যাকমেইল করবেন না। কিন্ত গত বছরের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসার পর পুনরায় আগের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এই মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মানহানিকর বক্তব্য লিখে তা পোষ্ট করতে থাকেন। এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকের নিকট থেকে টাকা আদায় করেন জামিল।

এঅবস্থায় নিরুপায় হয়ে মার্কিন নাগরিক বাংলাদেশী একজন আইনজীবিকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত বৃহস্পতিবার বড়লেখায় থানায় জামিল আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করান। ভুক্তভোগী মার্কিন নাগরিকের ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে ঢাকার পল্টন এলাকার অ্যাডভোকেট মারুফ হাসান এই মামলা করেন।