হবিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে দুই বারের প্রচেষ্টায় অবশেষে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম। আর বর্তমান মেয়র হয়েও হেরে গেলেন মিজানুর রহমান মিজান।

ধনে-জনে প্রভাবশালী মিজানুর রহমান মিজান। ইতিপূর্বে ১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। জায়গা করে নিয়েছিলেন পৌর আওয়ামী লীগে।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচমকা বিদ্রোহ করে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন তিনি। ওই নির্বাচনে নিজ এলাকার ভোট ব্যাংককে পুঁজি করে প্রথমবারের মত আলোচনায় আসলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

জি কে গউছের মত প্রভাবশালী প্রার্থীর সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নিজ এলাকা (৩টি কেন্দ্র) ব্যতিত পৌরসভার অন্য কোন কেন্দ্রেই জয় লাভ করতে পারেননি। পরে জি কে গউছ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলে ভাগ্য খুলে যায় মিজানের। সে সময় অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে শক্তিশালী কোন প্রার্থী না থাকাসহ নৌকা মার্কার আশির্বাদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন তিনি।

মিজানের ব্যর্থতা

টানা দেড় বছরেরও বেশি সময় মেয়র পদে আসীন থাকলেও নিতে পারেননি ডাম্পিং স্পট, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনসহ জনগুরুত্বপূর্ণ কোন নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্ত। প্রাত্যহিক রুটিন কাজ ছাড়া হয়নি বড় কোন দৃশ্যমান উন্নয়নও। উল্টো নানা কারণে হয়ে পড়েন বিতর্কিত।

বিশেষ করে সিএনজি স্ট্যান্ডে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েন শ্রমিক সংগঠনের সাথে। এ নিয়ে সিএনজি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলামের সাথেও তৈরি হয় দূরত্ব। এছাড়াও শহরে সীমাহীন যানজট থাকা সত্ত্বেও নতুন করে টমটমের লাইসেন্স প্রদান করায় জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

দূরত্ব বাড়ে দলিয় নেতাকর্মীদের সাথে

নানা কারণে দূরত্ব বাড়তে থাকে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে। একপর্যায়ে ঘোষিত হয় পৌর নির্বাচনের তফশিল। আবারও নৌকার প্রার্থী মনোনীত হন জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। কিন্তু কেন্দ্রীয় হাই-কমান্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আবারো বিদ্রোহ করে বসেন মিজান। বার বার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীসহ আওয়ামীমনা ভোটারদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মিজানের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় মেয়র মিজানের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন সাবেক মেয়র জি কে গউছ। বিষয়টি নাড়া দেয় সাধারণ ভোটারদের। এ অবস্থায় রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলে শোচনীয় পরাজয় ঘটে তার।

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নারিকেল গাছ প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯ হাজার ২৬২। গত ৫ বছরে পৌরসভায় নতুন ভোট যোগ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার। এবার একই প্রতীকে মিজান পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৯০ ভোট। সংখ্যার হিসেবে গতবারের চেয়ে এবার ১ হাজার ৭২৬ ভোট বেশি পেলেও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বেড়েছে নৌকার ভোট। তবে এবারও নিজ এলাকার ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

২৮ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ১৩ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় বিদ্রোহী মিজানুর রহমান মিজান নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৯০ ভোট।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ছয় জন। মোট ভোটার ৫০ হাজার ৯০৩ জন। তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২৯ হাজার ৬ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২৮ হাজার ৯১৬টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৯০টি। হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।