জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রবাসী রাজনীতিবিদদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন এএপিপি।

জানা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে উত্তর-পশ্চিম মায়ানমারের তাজ়ে শহরে বৃহস্পতিবার(৮ এপ্রিল) মারা যান ১১ জন বিক্ষোভকারী। তার আগের দিন তাজ়ের কাছেই কালে শহরে নিহত হয়েছিল ১২ জনের।

সপ্তাহখানেক আগেই মিয়ানমারের প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সেনাবিরোধী বিক্ষোভে দেশের গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল। সেই মতো এ বার সেনা-পুলিশের গুলি বর্ষণের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট প্রাণ হারালেন ৬০৯ জন। দেশটির প্রবাসী রাজনীতিবিদদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন এএপিপি এ তথ্য জানিয়েছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, সকালের দিকে বিক্ষোভকারীরা যখন মিছিলের জন্য জমায়েত শুরু করছেন, প্রায় ছ’টি ট্রাক ভর্তি সেনা সেখানে হাজির হয়। বিক্ষোভকারীরা বন্দুক, ছুরি আর বোতল বোমা নিয়ে প্রত্যাঘাত করলে আরও পাঁচ ট্রাক বাহিনী আসে। এর পরেই চলে নির্বিচারে গুলি।

হিয়েন মিন তেইক নামে এক যুবক জানান, এই দুই এলাকাই জঙ্গল-ঘেরা। তাই এখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দাই শিকার জানেন। তাঁরাই এখন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করছেন। সেনা-বিরোধী সিআরপিএইচ জোটের তরফে দেশের সাবেক এক মন্ত্রী সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিজেদের প্রাণ ও অধিকার রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ প্রত্যাঘাত করবেনই।

উল্লেখ্য, দেশটিতে পুলিশি হেফাজতে প্রায় ৩ হাজার জন বিক্ষোভকারী বন্ধী আছেন।সেনাবিরোধী বিক্ষোভকে সমর্থন জানানোয় গোটা দেশে একশোরও বেশি শিল্পীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।