দিনরাত ডেস্ক : ঢাকার আসিফ আলী চালালেন তাণ্ডব। ঝড়ে জবাব দিলেন খুলনার মুশফিক। যে ঝড়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল খুলনা। কিন্তু ঢাকার তরুণ পেসার হাসাদ মাহমুদ এ দিনে বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। তার তোপে মুশফিক ঝড় থামার পর উবে গেল খুলনার জয়ের আশা। ঢাকা জিতলো ১২ রানে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ২টায় বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ঢাকা ও খুলনার ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃষ্টিতে আউটফিল্ড ভেজা থাকায় দেরিতে শুরু হয় ম্যাচ। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ঢাকা।

শুরুটা ভালোই ছিল ঢাকা প্লাটুনের। তামিম ইকবাল আর এনামুল হক বিজয় মিলে ৫.২ ওভারে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। এরপরই খুলনার পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরের আঘাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তামিম (২৩ বলে ২৫)। খানিক বাদে তার পথ ধরেন এনামুলও (১৩ বলে ১৫)। কয়েক ম্যাচ ধরে টপ অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া মেহেদি হাসানও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ (৫ বলে ১)।

৬২ রানে ৩ উইকেট হারানো ঢাকাকে কক্ষপথে ফেরানোর চেষ্টা করেন মুমিনুল হক ও আরিফুল হক। তাদের ৫৬ রানের জুটি ভাঙে মুমিনুলের বিদায়ে। ফেরার আগে ৩৬ বলে ৩ চারে ৩৮ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপরই দৃশ্যপটে আগমন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান আসিফ আলীর। তার ব্যাটিং ঝড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি মেতে ওঠে উল্লাসে।

আসিফ আলী যখন উইকেটে এলেন, তখন ঢাকা প্লাটুনের রান ১৭.৩ ওভারে ১১৮। সেখান থেকে শুরু আসিফের ব্যাটিং তাণ্ডব। যে তাণ্ডবে এলোমেলো হয়ে যায় খুলনা টাইগার্সের বোলিং। একসময় ঢাকার জন্য দেড়শ’ রানই স্বপ্ন মনে হচ্ছিল। কিন্তু আসিফের ঝড়ে ঢাকা গড়ে ১৭২ রানের লড়াকু স্কোর।

মাত্র ১৩ বলে চারটি ছয় আর দুটি চারে ৩৯ রান তুলে ঢাকাকে ১৭২ রানে নিয়ে যান আসিফ। তার স্ট্রাইট রেট ছিল ৩০০! সাথে আরিফুল হকের ৩০ বলে ৩৭ রানও ছিল উল্লেখযোগ্য।

খুলনার ফ্রাইলিঙ্ক ৪ ওভারে দেন মাত্র ১৮ রান, তবে উইকেট জুটেনি তার ভাগ্যে। মোহাম্মদ আমির ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২টি, আমিনুল ইসলাম ২ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ১টি ও শফিউল ইসলাম ৪ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ১ একটি উইকেট নেন।

জবাব দিতে নেমে ২০ রানে ২ উইকেট হারায় খুলনা টাইগার্স। আমিনুল ইসলামের (৬ বলে ৪) পর ফিরে যান মেহেদি হাসান মিরাজ (১৫ বলে ১৫)। আমিনুলকে ফেরান মাশরাফি, মিরাজকে হাসান মাহমুদ। শামসুর রহমানও টিকতে পারেননি। আগ্রাসী খেলতে থাকা রুশোও ফিরে যান দ্রুত (১৩ বলে ১৮)।

৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা খুলনাকে জয়ের আশা দেখান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে ঢাকার বোলারদের চোখে সর্ষে ফুল দেখাতে থাকেন মুশফিক। তাকে সঙ্গ দেন নাজিবুল্লাহ জাদরান। তাদের ৪৫ বলে ৬৬ রানের জুটি ভাঙে জাদরানের বিদায়ে। দলের ঠিক ১০০ রানে রান আউট হয়ে ফিরেন জাদরান (২৯ বলে ৩১)।

তবে মুশফিকের ব্যাট তরবারি হয়ে চলছিল। এর মধ্যে রবার্ট ফ্রাইলিঙ্ক এসে ফিরে যান দ্রুতই। চালিয়ে খেলার চেষ্টায় হাসান মাহমুদের বলে মুশফিক ক্যাচ দেন শাদাবের হাতে। ফেরার আগে ৩৩ বলে ৬টি চার আর ৪টি ছক্কায় করেন ৬৪ রান। মুশফিকের বিদায়ে খুলনার জয়ের স্বপ্নও হারিয়ে যায় অন্ধকার আকাশে।

শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৬০ রানে থামে খুলনা। ঢাকা জয় পায় ১২ রানে।

ঢাকার হাসান মাহমুদ বোলিংয়ে ছিলেন দুর্দান্ত। ৪ ওভারে ৩২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। শাদাব খান ৪ ওভারে ২৫ রানে ১টি, মাশরাফি ৩ ওভারে ২৬ রানে ১টি ও থিসেরা পেরেরা ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট।

দারুণ বোলিংয়ের পুরস্কার ম্যান অব দ্য ম্যাচ পেয়েছেন হাসান মাহমুদ।