দিনরাত সেন্ট্রাল ডেস্ক : অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, ১৪ দলের অন্যতম নেতা রাশেদ খান মেনন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে তার দলের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, ওয়ার্কার্স পাটি ১৪ দলে ছিল এবং আছে। আজকে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী লড়াই করতে দলীয় ঐক্যের কোনও বিকল্প নেই। আমার নির্বাচন সম্পর্কিত অনাকাঙ্খিত অতিশয় উক্তিকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তার জন্য আমি দুঃখিত। আমি বলতে চাই, নির্বাচনে মানুষের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্যই নির্বাচনকে যথাযোগ্য রাজনৈতিক মযার্দায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে দোহারে ঢাকা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেনন বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সামনে দিকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। কিন্তু উন্নয়নকে স্থায়ী করতে হলে জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে বৈষম্য ও দুর্নীতি দূর করতে হবে। মানুষের অংশীদারিত্বকে নিশ্চিত করতে হবে। তিনি একই সময় কৃষক আন্দোলনে ঢাকা জেলার ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, যে আজকে যখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তখন কৃষক তার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে ধান ফলায় তার মূল্য পায় না, এটা পরবর্তীকালে উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। সুতরাং যেভাবেই হোক কৃষকের ফসলের দামের নায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গার্মেন্টেস শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তারা শ্রম দিয়ে দেশের জন্য যে বৈদেশিক মুদ্রা আনে তা দিয়ে মালিক গোষ্ঠী লাভবান হয় কিন্তু শ্রমিক যে মজুরি পায় তা দিয়ে তাদের ১৫ দিনও চলে না। এই বাস্তবতাকে দূর করে উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।

ঢাকা জেলা সভাপতি আবদুল বারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য নুরুল হাসান, মাহমুুদুল হাসান মানিক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করম আলী।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল নগরীর টাউন হলে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে রাশেদ খান মেনন বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিও নির্বাচিত হয়েছি। তারপরও আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি পরবর্তীতে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেনি দেশের মানুষ।’ মেননের এ বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।