দিনরাত প্রতিনিধি, চুনারুঘাট : চুনারুঘাট উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী নির্বাচিত হয়েছেন আহম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু। সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলা বাচাই কমিটি এ ঘোষণা দেন।

সনজু চৌধুরী টানা দ্বিতীয়বারের মতো আহম্মদাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অকেনেই প্রশ্ন করতে পারেন কি কারণে তিনি শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী নির্বাচিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়- সনজু চৌধুরীর নিজ ইউনিয়নে ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। বিগত ৮ বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা ও সাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। নিয়মিতভাবে মা সমাবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও ক্লাস গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেছেন। আমুরোড হাই স্কুলকে কলেজে রূপান্তর, চা বাগান অধ্যুশিত এলাকায় উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ ও নালুয়া চা বাগানে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছেন।

এছাড়াও, কালিশিরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত করেছেন। সেখানে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫৫ ইঞ্চি টেলিভিশন, ল্যাপটপ, সাউন্ড সিস্টেম, দুইটি প্রিন্টার ও একটি কম্পিউটারসহ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণি কক্ষ সজ্জিত করেছেন। ওই স্কুলেই ৮টি বৈদ্যুতিক পাখা, শহীদ মিনার নির্মাণ, বিদ্যালয়ের মাটি ভরাট ও গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ করেন। যে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপির বক্তব্যে প্রশংসিত হয়।

শুধু তাই নয়, বগাডুবী আব্দুল মন্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য ৩৩ শতক জমি দান করেন তিনি। আরো দুইটি নতুন বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য ভুমি সংগ্রহ করে দেন। একই স্কুলে ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও মাটি ভরাটের জন্য ২ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে শুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, ‘চেয়ারম্যান সনজু চৌধুরী এলাকার শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যপক উন্নয়ন করেছেন। স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করেছেন। এছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়নের তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

গাদীশাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আকমাল বলেন, ‘অভিভাবকদের জন্য গার্ডিয়ান শেড তৈরী করে দিয়েছে। যা অত্র এলাকায় আর চোখে পড়েনি।’

তিনি বলেন- ‘আমাদের স্কুলে ৮টি সিলিং ফ্যান, ১ সেট কম্পিউটার ও মাটি ভরাট করেছেন।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ রানা বলেন, ‘সনজু চৌধুরী প্রতি বছর অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করেন। শিক্ষাবান্ধব চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি উপজেলাজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছেন।’

তিনি বলেন- ‘সনজু চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাঁর আন্তরিকতায় বিগত ৮ বছরে ওই ইউনিয়নে শিক্ষার হার ৪০ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশে উন্নিত হয়। আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।’

ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. এম এম ফারুক বলেন, ‘সনজু চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার পর আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমুল পরিবর্তন হয়েছে। যা বিগত ১০ বছরের তুনায় অনেক এগিয়ে। এভাবে প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসলে দেশে শিক্ষার হান শতভাগ হতে বেশি দিন সময় লাগবে না।’