ফেনীর পরশুরাম পৌরসভায় ভোট ছাড়া আবার নির্বাচিত হয়ে গেছেন স্থানীয় সরকারের পৌরসভার প্রার্থীরা। মেয়র তো বটেই, সাধারণ ওয়ার্ডের ৯ জন আর সংরক্ষিত ৩ জন নারী প্রার্থীর কাউকে জনগণের কাছে যেতে হচ্ছে না সমর্থনের জন্য।

ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছেন তারা। এদের সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।

তাদের চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ ছিলেন না। বিএনপি মেয়র পদে একজনকে মনোনয়ন দিলেও তিনি প্রার্থিতা জমাই দেননি।

ধানের শীষের প্রার্থী বলছেন, তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি ভয়ে। যদিও আওয়ামী লীগ বলছে, হেরে যাবেন বলে পিছিয়েছেন বিএনপি নেতা।

রোববার চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। তার একটি পরশুরামে। কিন্তু সেখানকার ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে হবে না। ভোটের আয়োজনে ব্যস্ত থাকতে হবে না প্রশাসনকে।

এর আগে তিন ধাপের নির্বাচনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় দাগনভূঞা ও তৃতীয় দফায় ফেনী পৌরসভায় ভোট হয়।

দুই পৌরসভাতেই বেশির ভাগ কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

মেয়র পদে দুটিতেই ভোট হলেও ব্যবধান ছিল আকাশচুম্বী। বিএনপির দুই প্রার্থী হেরেছেন অস্বাভাবিক ভোটে। এর মধ্যে ফেনী পৌরসভায় ৯টি কেন্দ্রে ধানের শীষের পক্ষে একটিও ভোট পড়েনি।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্র দখল করে ভোট নিয়ে যায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের আসতে নিষেধ করে। এ কারণেই এই চিত্র।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বর্জনের পর থেকে ফেনীতে এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ব্যাপক প্রভাব, ভোট হলে অস্বাভাবিক ব্যবধানে জয়, বিরোধী দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে ভোট থেকে দূরে সরে থাকছেন। এটি স্থানীয়ভাবে ভোটের ‘ফেনী স্টাইল’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

পরশুরামের ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার রীতি এবারই প্রথম নয়। ২০১৫ সালের নির্বাচনেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। পরপর দুইবার মেয়র ও ১২ কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১০ সালের পৌর নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ভোটারদের। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে নারাজ। তবে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে একে অপরকে দুষছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আফসার বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চাই না। কথা বলে কী লাভ? যা হওয়ার তো তা হচ্ছে।’

বিএনপি যাকে প্রার্থী করেছিল, সেই কাজী মো. ইউছুপ মাহফুফ বলেন, ‘মনোনয়ন জমা দেয়ার তিন দিন আগ থেকে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমার মেয়েদের অপহরণ করার হুমকি দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের দাবি কাউকে মনোনয়ন জমায় বাধা দেয়া হয়নি। নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়েই তারা প্রার্থী হতে সাহস করেননি। এখন মুখরক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছেন।

আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। তিনি ভয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। নিজেদের দোষ স্বীকার না করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।’