করোনাভাইরাসে দীর্ঘদিন বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবারের রমজানে স্কুল-কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘৩০ মার্চ তারিখে খুলে দেব।’

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে এবার রমজান মাসে স্কুল-কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার রমজান মাস জুড়ে ছুটি থাকবে না। শুধু ঈদের ছুটি থাকবে।’

মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রতিদিন, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রতিদিন এবং অন্য ক্লাসগুলো হয়তো সপ্তাহে একদিন নেয়া হবে। আর প্রাক প্রাথমিকের ক্লাস এখন শুরু হবে না।

স্কুল খোলার আগে সব শিক্ষক-কর্মকর্তাকে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হবে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘প্রাথমিকের দেড় লাখ শিক্ষক টিকা নিয়েছেন। বাকি ৫০ হাজার শিক্ষকের জন্য টিকার নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে। ক্লাস শুরুর আগেই সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা হবে।’

গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ধাপে ধাপে সাত দফা ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সব শেষ সিদ্ধান্ত ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২২০টা আবাসিক হল আছে। আবাসিক হলগুলোতে ছাত্র সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার। এসব শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগও হয়েছে।

‘আমরা প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির মাধ্যমে গত বুধবার চিঠি পাঠিয়েছি। তারা সকল আবাসিক ছাত্রের নাম ঠিকানাসহ ন্যাশনাল আইডি নম্বরসহ আমাদের কাছে তালিকা পাঠাবেন এটা শুধুমাত্র টিকার জন্য। সে তালিকা আমরা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কাছে পাঠাব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

‘শিক্ষার্থীরা যেখানেই থাকুক সেখান থেকেই তারা নিবন্ধন করতে পারবে এবং নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে। আমরা আশা করছি ১৭ মে এর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এক লাখ ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব।’

গত ২২ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল কলেজগুলোকে ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।

এরপর ৩০ জানুয়ারি এইচএসসি ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামী মার্চ বা এপ্রিলের দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত হতে পারে।

‘করোনাভাইরাস আমরা যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখছি, সবাই যদি আরেকটু মেনে চলেন আমরা এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব এবং খুব দ্রুতই আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে পারব। আমরা আশা করছি যে, হয়তো আগামী মার্চ-এপ্রিল, আমরা মার্চ মাসটা দেখব।’