চুনারুঘাট পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। নির্বাচনের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বিপুল সংখ্যাক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম রুবেল, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু এবং ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বাছির।

এছাড়া কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১১ জন। এখানে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৪০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ১১১ জন এবং নারী ভোটার ৭ হাজার ৩৯১ জন। ৯টি ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রে ৪৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

হবিগঞ্জে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনটি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অংশ না নিলেও এই পৌরসভায় ইসলামী আন্দোলনের একজন প্রার্থী রয়েছেন। যে কারণে এ পৌরসভা নির্বাচনের উত্তাপ একটু বেশিই। তবে এখোনে কোনো দলেই নেই বিদ্রোহী।

চুনারুঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তিন প্রার্থীর মধ্যে কারও থেকে কেউ এক ইঞ্চিও পিছিয়ে নেই। তিন প্রার্থীরই রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক। এছাড়া জনপ্রিয়তায়ও পিছিয়ে নেই কেউই। তবে বৃহৎ রাজনৈতিক দল হওয়ায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রার্থী একটু বেশিই শক্তিশালী।

চুনারুঘাট উপজেলা মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে বিপুল সংখ্যক চা শ্রমিক ভোটার হওয়ায় প্রতিটি নির্বাচনেই নৌকার বাক্সে একচেটিয়া ভোট পড়ে। তবে শুধু পৌরসভার হিসেবে ধরলে বিএনপির দাপটও রয়েছে বেশ। যে কারণে ২০১৫ সালের নির্বাচনে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীর কাছে হারতে হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে।

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সাইফুল আলম রুবেল এবং বিএনপি থেকে নাজিম উদ্দিন সামছু। এবারও দুইদল থেকে মনোনয়ন পেয়েছে তারাই। গত নির্বাচনে মাত্র ১৪ ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থী রুবেলকে হারিয়ে জয় পেয়েছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন সামছু।