সিলেটে পুলিশের ‘নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর সাত মাস পর হত্যা মামলার অভিযোগপত্র অবশেষে আদালতে জমা দিতে যাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান জানান, বুধবার আদালতে এটি জমা দেয়া হবে। জমা দেয়ার আগে বুধবার দুপুর ১২টায় অভিযোগপত্র নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রায়হানের পরিবার। অভিযোগপত্র প্রস্তুত হয়ে গেছে বলেও প্রায় এক মাস পার করে দিয়েছে পিবিআই।

তবে পুলিশ সুপার খালেদ-উজ জামান বলছেন, অভিযোগপত্রে যেন কোনো খুঁত না থাকে, তদন্ত নিয়ে যেন প্রশ্ন না ওঠে সে জন্য তদন্তে সবগুলো দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আলোচিত এ মামলার আসামি পুলিশ হওয়ায় একটি নির্ভুল, ত্রুটিমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য অভিযোগপত্র তৈরি করতে কিছুটা সময় লেগেছে। এ ছাড়া করোনার বিরূপ পরিস্থিতির কারণেও দেরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর অভিযোগপত্র প্রস্তুত হওয়ার খবরে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন রায়হানের মা সালমা বেগম।

তিনি বলেন, অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও অবশেষে অভিযোগপত্র প্রস্তুত হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে যেন কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করা না হয়।

ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে গত বছরের ১১ অক্টোবর রাতে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১২ অক্টোবর সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রায়হানের লাশ পাওয়া যায়।

রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, টাকার দাবিতে রায়হানকে ফাঁড়িতে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করা হয়। ভোরে রায়হানের চাচা টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এর আগেই মারা যান রায়হান। ১২ অক্টোবর রাতে হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তিন্নি।

পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানায়, এই মামলার তদন্তে রায়হানকে নির্যাতনের সঙ্গে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, বরখাস্ত হওয়া টুআইসি (সেকেন্ড ইনচার্জ) এসআই হাসান আলীসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে তাদের আসামি করা হবে।

রায়হান হত্যার ঘটনার পর বন্দরবাজার ফাঁড়ির ছয় পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ছয়জন এখন কারাগারে রয়েছেন।

তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, টুআইসি এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেকে এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া ও কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস।

গ্রেপ্তারের পর তাদের সবাইকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। প্রধান অভিযুক্ত বহিষ্কৃত এসআই আকবরকে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া হত্যার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন ও প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তার দায়ে অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক কোম্পানীগঞ্জের আবদুল্লাহ আল নোমানকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি।