করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। লকডাউন হলেও সে সময় শিল্প-কারখানা খোলা থাকবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার সকালে তার সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘লকডাউন হলেও শিল্প কলকারখানা শর্তসাপেক্ষ চালু থাকতে পারে। প্রক্রিয়াটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা সন্ধ্যার মধ্যে বিস্তারিত জানাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।’

জরুরি সেবার পাশাপাশি শিল্প-কারখানা খোলা রাখার কথা বলেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনও।

সারা দেশে লকডাউন দেয়া নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘দ্রুত বেড়ে যাওয়া করোনার সংক্রমণ রোধ করার স্বার্থে সরকার দু-তিন দিনের মধ্যেই সারাদেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে এক সপ্তাহের জন্য। লকডাউন চলাকালে শুধু জরুরি সেবা দেয়, সে ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে।’

এসবের পাশাপাশি আরও কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা থাকার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আর শিল্প-কলকারখানা খোলা থাকবে। যাতে করে শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং বিভিন্ন শিফটিং এর মাধ্যমে তারা কলকারখানায় কাজ করতে পারেন।’

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনসমাগম সীমিত করা, গণপরিবহনে যাত্রী কমানো, বিয়ে-শাদি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে কড়াকড়িসহ কঠোর ব্যবস্থার কথা জানায়।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর জানানো হয়। এরপর মার্চের শেষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সে সময় পোশাকসহ অন্যান্য কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

সরকার তখন কারখানা খোলা বা বন্ধ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না জানালে বিপাকে পড়েন শ্রমিকরা। সংক্রমণের মধ্যে গাড়ি বন্ধ থাকলেও পোশাক কারখানা খুলে দেয়ায় ফিরতে শুরু করেন শ্রমিকরা। এমন কিছু অব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া সমালোচনাও হয়।