মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর সংরক্ষিত বনে লাগা আগুন প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বিকাল পৌনে ৪ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলমা।

এর আগে শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২ টার দিকে এ জাতীয় উদ্যানে আগুন লেগে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়ার জাতীয় উদ্যানের বাঘমারা ক্যাম্প এলাকার স্টুডেন্ট ডরমেটরি অংশে কাজ করছিলেন কিছু শ্রমিক। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে তারা সেখানে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখেন।

আগুন লাগার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় ৪ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় রাস্তা না থাকা ও পানির উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে প্রচুর ব্যাগ পেতে হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এদিকে আগুনে বনের ভেতর প্রচুর গাছপালা পুড়ে যায়। হয় বনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। তবে আগুবন লাগার কারণ বন বিভাগ থেকে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী।

এদিকে, আগুন লাগার কারণ নির্নয় করতে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন বিভাগ। এই কমিটিকে দুই দিনের ভেতরে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি সরোয়ারের নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্য হলেন বন মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন।

১২৫০ হেক্টর জমি নিয়ে লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ১৯৯৬ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উদ্ভিদ আর প্রাণীবৈচিত্রের আঁধার এই বন বিভিন্ন বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। বন বিভাগের হিসেব মতে, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ (৩৯ প্রজাতির সাপ, ১৮ প্রজাতির লিজার্ড, ২ প্রজাতির কচ্ছপ), ২২ প্রজাতির উভচর, ২৪৬ প্রজাতির পাখি ও অসংখ্য কীট-পতঙ্গ রয়েছে। এই বনে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, চশমাপড়া হনুমানও দেখতে পাওয়া যায়।