হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার দুই নম্বর মোড়াকরি ইউনিয়নে সরকারি সহায়তাভোগীর সংখ্যা নির্ধারণ নিয়ে দুই জনপ্রতিনিধির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। একে অন্যকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, এমনকি গুলি করারও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ গড়িয়েছে থানা-পুলিশ পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ঈদুল ফিতরের আগে মোড়াকরি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে এক হাজার ২৫৩ জন অসহায় ৪৫০ টাকা করে পাবেন। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে সুষ্ঠুভাবে তালিকা করে এ সহায়তা বিতরণের কথা।

সম্প্রতি ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা নির্ধারণ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কাসেম মোল্লা ফয়সল ও সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইসহাক মিয়ার মধ্যে উপকারভোগীর নাম কম-বেশি দেয়া নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরপর তাদের দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যেও উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

গত ৩০ এপ্রিল ইউপি সদস্য ইসহাক লাখাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ইসহাকের দাবি, চেয়ারম্যান তাকে অন্যায়ভাবে মাত্র ৫০ জন উপকারভোগীর নাম দেয়ার কথা বলেছেন। অন্য সময় তিনি তার ওয়ার্ডের ১৫০ জনের নাম দিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার কম পাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে চেয়ারম্যান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন ও একপর্যায়ে গুলি করার হুমকি দেন। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এসব কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোল্লা ফয়সল বলেন, সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যকে ঠিক মতোই উপকারভোগীর কার্ড দেয়া হবে। তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন এবং নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান গালাগালের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।’