লাখাইয়ে স্বামী ও বাসুরের অমানষিক নির্যাতনে এক সন্তানের জননীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে।

বুধবার সকালে লাখাই থানা পুলিশ নিহত অঞ্জনা রাণী সূত্রধর’র (২৮) লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মুড়াকড়ি গ্রামের মৃত হরিচরন বণিকের ছেলে নিতেশ বণিক ৩ বছর আগে বিয়ে করে পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের শ্রী হরি সূত্রধরের কন্যা অঞ্জনা রাণী সূত্রধরকে। বিয়ের পর তাদের কোলজুড়ে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। যার নাম নিতেন্দ্র বণিক (১)।

নিহতের বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, সম্প্রতি পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহের সৃষ্টি হয়। প্রায়ই তার স্বামী ও তার বড় ভাই বিকাশ বণিক অঞ্জনাকে কারণে অকারণে নির্যাতন করতো। বিষয়গুলো ফোনে তার ভাই সুজিত সূত্রধরকে জানাতো। গত মঙ্গলবার রাতে অঞ্জনাকে স্বামী ও ভাসুর অমানসিক নির্যাতন করে। বিষয়টি ফোনে ভাইকে জানায়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গভীর রাতে খবর পাওয়া যায় অঞ্জনা মারা গেছে।

পরে লাখাই থানাকে বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এসআই আব্দুল মন্নান লাশের সুরতহাল তৈরি করে মর্গে প্রেরণ করেন। ঘটনার পর থেকে ভাসুরসহ পরিবারের অন্যান্য লোক আত্মগোপন করে তবে সকালেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিতেশ বণিককে আটক করেছে।

লাখাই থানার ওসি (তদন্ত) জানান, কেউ এখনো মামলা করেনি। আটক স্বামী নিতেশকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ছাড়া লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলা দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।