চারদিকে হলুদের সমারোহে বিশাল মাঠ। সাথে মৌমাছির গুনগুন গুঞ্জন। যতদুর চোখ যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে ভেসে উঠে হলুদ প্রান্তর। এ যেন এক হলুদ জলরাশীর সাগর।

এ দৃশ্য ফুটে উঠে হাওর বেষ্টিত হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়।

জেলায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেক স্থানে সরিষা চাষের পাশাপাশি মধু সংগ্রহের জন্য মধুবক্স স্থাপন করা হয়েছে। এতে যেমন মৌমাছির মাধ্যমে সরিষার পরাগায়ন হবে তেমনি বাড়বে ফলনও। পাশাপাশি রাসায়নিকের ব্যবহার কমে আসবে। কৃষকের খরচ এবং পরিশ্রম দুটোরই সাশ্রয় হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় তিন হাজার ৫০০ একর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। লাখাই উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০টি মধু বক্স স্থাপন করা হয়েছে।

বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষার ক্ষেত।      ছবি- সৈয়দ সালিক আহমেদ


মধু চাষিরা আশা করছেন, এসব মধু বক্স থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫শ’ লিটার মধু সংগ্রহ করতে পারবেন। যার বাজার মূল্য হবে আনুমানিক আড়াই লক্ষাধিক টাকা।

সোমবার (২৫ জানুয়ারী) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মধু সংগ্রহ করা হয় উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৌবাড়ী এলাকা মাঠ থেকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আলম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জীবন কুমার দে, মৎস্য অফিসার ইসহাক তালুকদার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোহাম্মদ আজহার মাহমুদ, লাখাই রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহমদ রিপন, আতাউর রহমান, উপসহকারী কৃষি অফিসার মামুনুর রশীদ প্রমুখ।

লাখাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং মধু সংগ্রহের উদ্ধোধন করেন।      ছবি- সৈয়দ সালিক আহমেদ


সরিষা চাষী মলাই মিয়া বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিস আমাদেরকে বীজ রোপন থেকে শুরু করে সব সময় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে আমাদেরকে আরো প্রশিক্ষিত করলে আমরা ভাল ফলন করতে পারব বলে আশা রাখি।’

লাখাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহার মাহমুদ বলেন, ‘জেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় আমরা কৃষকদেরকে মাঠ পর্যায়ে মধু চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছি। মধু চাষিদের সব সময় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর তিন হাজার ৫শ’ একর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জমি থেকে মধু সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছর কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরিষা ক্ষেত থেকে মধু উৎপাদন বৃদ্ধি করার।’