রনিক পাল, ওসমানীনগর: সিলেট -২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। সদ্য হওয়ার সাথে সাথেই তাকে ভূলে গেল ওসমানীনগর আওয়ামীলীগ।

বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথের আওয়ামীলীগের যে কোন সভায় যাকে সব সময় দেখা যায়। ওসমানীনগর আওয়ামীলীগের বিজয় দিবসের সভায় দেখা গেলো না তাকে। অনেকেই মন্তব্য করছেন সদ্য সাবেক হওয়ায় নেতাদের কাছে কমে গেছে তার গুরুত্ব। যে কোন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া মাত্রই তিনি উপস্তিত হতেন । কিন্তু মহান বিজয় দিবসে তাকে কাছে না পেয়ে হতস্থম্ভ হয়েছেন কর্মীরা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে উপজেলার তাজপুর কদমতলাস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু‘র পরিচালনায় প্রধান অতিথি করা হয় জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ এফতার আহমদ পিয়ার। বিশেষ অতিথি করা হয় জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু। কিন্তু দেখা যায়নি শফিকুর রহমান চৌধুরীকে ।

ওসমানীনগর আওয়ামীলীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে বিজয় দিবসের আওয়ামীলীগের সভার দাওয়াত পাননি শফিক চোধুরী। পূর্ব পূস্ততি সভার সিন্ধান্ত অনুযায়ী বিজয় দিবসের সভার অতিথি নির্ধারন করা হয়েছে। অতিথি করা হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দুই নেতাকে। তবে বিজয় দিবস ও জাতীয় দিবসে উপজেলা আওয়ামীলীগের যে কোন সভায় দেখা যেত শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। যিনি দ্বায়ীত্বে থাকা অবস্থায় ঘোষনা করা হয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি। সেই কমিটির সভায় নেই তিনি। শফিকুর রহমান চৌধুরী ওসমানীনগর উপজেলা কমিটি ঘোষনা করে স্থাপন করেছেন এক অনন্যা দৃষ্ঠান্ত। দূর হয়েছে ১০ বছরের গ্রুপিং রাজনৈতি। ওসমানীনগরে প্রায় ১০ বছর থেকে বিবেদমান আওয়ামী লীগ মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় এক টেবিলে। ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সবাইকে এক টেবিলে দেখে উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ সংগঠন যেন ফিরে পেলো প্রাণ। এক টেবিলে বিবেদমান সবাইকে দেখে আনন্দিত নেতা কর্মীরা। তবে একটি বিষয় ব্যথিত করেছে সেটি হলো শফিকুর রহমান চৌধুরীর অনুপস্তিতি। শফিকুর রহমান চৌধুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের বিজয় দিবসের সভায় থাকলে বুধহয় পূর্নতা পেত আরো। যিনি মাঠে ঘাটে ছুটে তার নেতা কর্মীদের খবন নেন। কোন নেতা কর্মী অসুস্থ জানলে দৌড়ে যান হাসপাতালে। নির্দেশ দেন সঠিক চিকিৎসার। যার অক্লান্ত পরিশ্রমে পূর্ণঙ্গ হলো ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগ। যিনি বিবেদমান নেতাকর্মীদের এক টেবিলে আনলেন সেই টেবিলেই উপস্তিত নেই তিনি।

১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষে পূর্বে আরেকটি সভা এবং পরিচিতি সভায়ও দেখা যায়নি শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। আজকের বিজয় দিবসের ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের আলোচনা সভায় শফিকুর রহমানকে না দেখে অনেকেই বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্চুক ওসমানীনগর উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী বলেছেন, সদ্য সাবেক হওয়ায় নেতাকর্মীদের কাছে কমে গেছে তার গুরুত্ব। যারা ধাপটের সাতে রাজনীতির মাঠে তার হাত ধরে উঠে এসছে আজ তাকেই তার ভূলে গেল।