রাজধানীর শাহবাগে লেখক মুশতাক আহমেদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন।

জানাজায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ কাশিমপুর কারাগারে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মারা যান।

র‌্যাবের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মুশতাক আহমেদ গত বছরের মে মাস থেকে কারাবন্দী ছিলেন। শুরু তিনিই নন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ওই সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন।

তার মৃত্যুতে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের জাতীয় কাউন্সিলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে অপরাধ দমন করা যায় না। এই কালো আইনকে কবর দেওয়ার সময় এসেছে।’

‌‌‌লেখক ও শিক্ষক হিসেবে আমি মর্মাহত উল্লেখ করে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “এমন একটা মামলার মারপ্যাঁচে ফেলে মুশতাক আহমেদকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া অন্যায়। এই মুহূর্তে আমি এই মামলায় গ্রেপ্তার কার্টুনিস্ট কিশোরের মুক্তি চাই।”

লেখক মুশতাক আহমেদকে কারাগারে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মুশতাকের মতো একজন অরাজনৈতিক নিজস্ব চিন্তার লেখকের মৃত্যুর সঙ্গে রাষ্ট্রশক্তি জড়িত বলে বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।