হবিগঞ্জে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং ব্রীজের নির্মাণ কাজ চলছে। যে কারণে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরাতন ব্রীজটি। সেই পুরাতন ব্রীজের সম্পূর্ণ রড বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এমনকি শনিবার সন্ধ্যায় পাচারের সময় ৭ টন রডসহ একটি ট্রাক আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ।

ঠিকাদারের দাবি, ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বুলডোজার এনেছেন। চুক্তি অনুযায়ী যারা ব্রীজ ভেঙে দেবে তারাই অবশিষ্ট ইট, পাথর ও রড নিয়ে যাবে। তবে হবিগঞ্জ এলজিইডি অফিস বলছে, পুরাতন রডের ২ লাখ ৯৯ হাজার টাকার একটি এস্টিমেট দেয়া হয়েছিল।

জেলা এলজিইডি অফিস থেকে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং ব্রীজটি প্রায় দশ বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গেল বছর পৌনে পাঁচ কোটি টাকার টেন্ডার দিলে কাজ পায় গোলাম ফারুক সত্বাধিকারী একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্রীজের পূণঃনির্মাণ কাজ শুরু হলে করোনার কারণে কাজের অগ্রগতি থমকে যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে ব্রীজ ভাঙার কাজ শুরু হয়।

এদিকে, ব্রীজটি ভেঙে যে রডগুলো পাওয়া যায় সেগুলো নিলামে না তুলে ঠিকাদার গোলাম ফারুক সেগুলো বিক্রি করে দেন। শনিবার সন্ধ্যায় পাচারের সময় ৭ টন রডসহ একটি ট্রাক আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার গোলাম ফারুক জানান, তিনি ঢাকা থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বুলডোজার এনেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, যারা ব্রিজ ভেঙে দেবে তারাই অবশিষ্ট ইট, পাথর ও রড নিয়ে যাবে। এছাড়াও তাদের সাথে অবিশিষ্ট চুক্তির টাকাতো আছেই।

এ বিষয়ে প্রকল্পের (এসও) উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার কিভাবে ব্রীজের মালামাল নিলামে না তুলে নিজেই বিক্রি করেছেন, সেটা আমার বোধগম্য নয়। আমরা ব্রীজের রডের একটি ইস্টিমেট ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এ ব্যাপারে অনিয়ম হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

তবে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় অধিদপ্তর (এলজিইডি) শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী মো. ফারুক জানান, সুতাং ব্রীজের পূণঃনির্মাণ কাজ শুরু হলে করোনার কারণে কাজের অগ্রগতি থমকে যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে ব্রীজ ভাঙার কাজ শুরু হয়। পুরাতন রডের ২ লাখ ৯৯ হাজার টাকার একটি এস্টিমেট দেয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুতাং পুরাতন ব্রীজের রড বোঝাই ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে আসি। প্রকল্পের ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে কাগজপত্র নিয়ে আসতে।