দিনরাত নিউজ : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ নূর হোসেন নিয়ে বেফাঁস মন্তব্যের জন্য সংসদে দাঁড়িয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেছেন, আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমার কলিগরা আমার এটা শুনে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছেন, হয়তো আমার দল ক্ষমতায় থাকলেও মন্ত্রী হতে পারতাম না।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত সম্পর্কিত ধারায় তিনি একথাগুলো বলেন।

মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, গত ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র দিবস পালন নিয়ে একটি সভা ছিল, ছোট্ট পরিসরে। মাইক বাইরে ছিল না, ভেতরে সাউন্ডবক্সের মধ্যে আমরা কথা বলেছি। নূর হোসেন দিবসও একই দিন ছিল। আমাদের ওখানে পুরান ঢাকা থেকে তখন কিছু লোক আসছিল নূর হোসেন চত্ত্বরে। ওখানেই এরশাদ সাহেবকে গালাগালি করে এরশাদের দুই গালে জুতা মার তালে তালে এইভাবে কিছু কথা বার্তা শোনার পরে, ওনারা আমাদের অফিসে এসে বলেন। আমি দলের মহাসচিব হিসেবে ওনাদের শান্ত থাকতে বলি। কিন্তু তারা এ সময় হৈ চৈ করেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের সিনিয়র মন্ত্রীগণ আমার সম্পর্কে যেভাবে কথা বলেছেন, ওনাদের কথাগুলোকে আমি মনে করছি ওনারা আমাকে শাসন করেছেন। আমি ভুল করেছি একটা। ভুল করার জন্য তার পরিবারকে অর্থাৎ নূর হোসেনের পরিবারের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি এবং বিবৃতিও পর্যন্ত দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি জাতির জনক সম্পর্কে মূলত এই সংসদে প্রথম দিন ৩৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। তখন সৈয়দ আশরাফ সাহেব ছিলেন। তার পক্ষে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এখানে দাঁড়িয়ে ৩৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম, অজস্রবার জয়বাংলা বলেছি, অজস্রবার আমি জাতির পিতা সম্পর্কে বলেছি। সুতরাং জাতির পিতা নিয়ে যদি আমার কোনো রকম কোন কিছু ভুল বলে থাকি সেজন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। এ সময় পেছন থেকে সরকারি দলের সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী বলেন এই রাঙ্গা চোরা।

বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ বলেন, আমরা মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচন করেছি। ২০১৪ সালে শীতের মধ্যে আমি ও শাজাহান খান সাহেব আমরা ১৮ দিন হেলিকপ্টারে দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছি পরিবহন চালু রাখার জন্য, এই সরকারের জন্য কাজ করেছি। সেখানে আমি প্রধানমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতিবাজ এগুলো বলিনি। আমি বলেছি বিশ্বজিৎও এই সময় হত্যা হয়েছে, ক্যাসিনো নিয়েও বিচার হয়েছে। আমি বলেছি ১৯৯০ সালের পর যখন খালেদা জিয়া আসলেন ১৮ জন কৃষককে হত্যা করা হয়েছিল সে সময়, গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। এই অস্ত্র বাইরের দেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাকে হত্যা করার জন্য। এই কথাগুলো রেকর্ড আছে। তারপরেও আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাচ্ছি, যদি এটা ভুল করি। অবশ্যই আমি করজোড়ে তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি আমার দল ক্ষমতায় থাকলেও হয়তো মন্ত্রী হতে পারতাম না। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন অনেক ভালবাসতেন। সেই সম্পর্কটা ওনার সঙ্গে থাকবে এবং ছিল জন্যই উনি আমাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি কাউকে কটাক্ষ করে কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমি সমস্ত দোষ আমার ঘাড়ে নিচ্ছি। আমার হয়তো বলতে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। আমি তিন দিন যাবৎ জ্বরে ভুগছি। আমি আসতে পারিনি। কালকে আসলে কালকেই জবাব দিতে পারতাম। নূর হোসেন কিন্তু মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা গুলি করে বা এরশাদ সাহেব গুলি করে মারুক বা না মারুক এটা সত্য যে ওনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে পত্র দিয়েছি। রাঙ্গা বলেন, আমার ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।

এর আগে, রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ইয়াবাখোর ফেনসিডিলখোর ছিলেন নুর হোসেন। তাকে নিয়ে নাচানাচি করছে আওয়ামী লীগ বিএনপি। তাদের কাছে ইয়াবা-ফেন্সিডিলখোর ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব বেশি। এরশাদ সাহেবের কাছে এরা কোনো গুরুত্ব পাননি। যারা গণতন্ত্রের গ ও বুঝে না, অ্যাডিক্টেড একটি ছেলে নুর হোসেন। পুলিশ গুলি করলো সামনে থেকে আর ঘুরে গিয়ে পেছন থেকে লাগল। কি হাস্যকর যুক্তি!

রাঙ্গার বক্তব্যে দেশজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা। এরপর নূর হোসেনকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) নূর হোসেনের পরিবারসহ সকলের কাছে ক্ষমা চান জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা।