দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : সংস্কৃতির এ কার্যক্রম দেশের নানা প্রান্তে চলেছে তাকে চারদিকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ সংস্কৃতি আমাদের ভাব প্রকাশের জায়গা, আমাদের চেতনার জায়গা, আমাদের সভ্যতা ও অভ্যাসের জায়গা। আমাদের যে রীতি-নীতি তাও কিন্তু সংস্কৃতির একটি অংশ।

কথাগুলো বলেছেন গীতিকার ও সুরকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। গতকাল বৃহস্পতিবার চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতিক উৎসবের তৃতীয় দিন ‘বাংলার সিনেমা ও বাংলার গান’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন- বাংলার গান ও বাংলার সিনেমা আমাদের প্রাণের স্পন্দন। তাই বাংলার গান শুনতে হবে, বাংলাদেশের সিনেমা দেখতে হবে। আমাদের দেশকে প্রাশ্চাত্য সংস্কৃতি যেভাবে গ্রাস করে নিচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে আমরা নিজেদের সংস্কৃতিকে হারিয়ে ফেলব। তাই আমাদের নিজস্ব বাংলার সংস্কৃতিকে সমৃৃদ্ধ করতে ও ঠিকিয়ে রাখতে এমন উৎসব নিঃস্বন্ধে প্রশংসার দাবিধার।’

প্রতিটি জেলায় এমন আয়োজন করলে অতিথিতের ন্যায় আবারও চারদিকে আমাদের প্রাণের সেই সংস্কৃতি ছড়িয়ে পরেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি তরুণ প্রজন্মকে বাংলার গান ও সিনেমায় মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান। একই সাথে শিশুকাল থেকেই সন্তানদের দেশীয় সংস্কৃতি লালনে উদ্বুদ্ধ করতে পিতা মাতার প্রতি অনুরোধ জানান এই বরেণ্য গীতিকবি।

চুনারুঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক জোহরা গাজী। আলোচন হিসিবে উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার তাপস কুমার দত্ত।
এছাড়াও দিনব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দেশ বরেণ্য শিল্পিরা মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় দর্শকদের বিমোহিত করেছেন।

উল্লেখ্য- চুনারুঘাটে সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসব শুরু হয় গত ১৭ ডিসেম্বর। আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্দ নামবে বাংলাদেশের সর্ববৃহত্তম এই সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের।